রাজনীতি চলবে কি না সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের: শিক্ষামন্ত্রী

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

গত ৬ অক্টোবর রাতে শেরে বাংলা হলের একটি কক্ষে আবরারকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। ছাত্রলীগ ইতোমধ্যে ১১ জনকে বহিষ্কার করেছে।

অন্যদিকে শনিবার সকাল পর্যন্ত এই হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত ১৫ জনসহ ১৯ জনকে গ্রেপ্তার কেরেছে পুলিশ।

আবরার নিহত হওয়ার পর সেখানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানায়।

কুষ্টিয়ার ছেলে আবরার হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলনের পঞ্চম দিনে গত শুক্রবার ১০ দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেন বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।

তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে-বুয়েটে সাংগঠনিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করে সকল হল থেকে অবৈধ ছাত্র উৎখাত করতে হবে। অবৈধভাবে হলের সিট দখলকারীদের উৎখাত করতে হবে। সাংগঠনিক ছাত্র সংগঠনগুলোর অফিস রুম সিলগালা করতে হবে।

আরও রয়েছে-সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের পর ভবিষ্যতে কেউ যদি এ রকম সাংগঠনিক কার্যক্রমে জড়িত হয় কিংবা কোনো রকম ছাত্র নির্যাতনে জড়িত হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেবে- তা বিস্তারিত জানিয়ে নোটিস জারি করতে হবে। পরবর্তীতে এটি যে অর্ডিন্যান্সে অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা নোটিসে উল্লেখ থাকতে হবে।

পাশাপাশি, এ ধরনের কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি কমিটি করতে হবে এবং কমিটি গঠনের বিষয়টিও নোটিসে উল্লেখ করতে হবে বলে শিক্ষার্থীরা দাবি জানায়।

ওই সভায় শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দাবি মত ক্যাম্পাসে সাংঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিটিও মেনে নেন তিনি। পরদিন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিও জারি করে।

এরই প্রেক্ষিতে শনিবার সকালে চাঁপদুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যান্য বিশ্বাবিদ্যালয় পরিচালনায় রয়েছে পৃথক পৃথক আইন।

সেই প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ দিয়ে চালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের অধ্যাদেশ অনুযায়ী এবং অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিজস্ব আইন দ্বারা পরিচালিত হয়।

“এক্ষেত্রে সাংগঠনিক রাজনীতি চলবে না বন্ধ হবে তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়।”

আবার হত্যাকাণ্ডে ‘অপরাজনীতি’, ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের’ ভূমিকা থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তবে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগিং, বুলিং এর অপসংস্কৃতি ছিল।

বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ‘অপসংস্কৃতি’ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে।

“সেটি বন্ধ করার ক্ষেত্রে বুয়েটের ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকদের আগে থেকেই যদি একটু উদ্যোগ থাকত তাহলে এই ধরনে ঘটনা ঘটত না।”

শিক্ষাঙ্গণে হত্যাকাণ্ডের জন্য রাজনীতিকেই দায় চাপিয়ে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের জন্য অনেক আগে থেকেই দাবি জানিয়ে আসছে অনেক পক্ষ।

‘সকল ক্ষেত্রে রাজনীতিকে দোষ দিলে হবে না’ উল্লেখ করে মন্ত্রী পাল্টা পশ্ন করেন, “রাজনীতি ছাড়া দেশ চলে?

“আপনি যা কিছু করবেন তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেই চলে কিন্তু রাজনীতিটা যেন সুষ্ঠু হয়, সুস্থ্য ধারার হয়। রাজনীতিকে যেন কেউ ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে কোনো অপকৃতি করতে না পারে।”

এর জন্য রাজনৈতিক সংগঠনের পাশাপাশি সমাজের সবাইকে সচেতন হওয়ার এবং  গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল।

পরে দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।