রাঙ্গুনিয়ায় যুবলীগ সভাপতির প্রকাশ্যে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি,ব্যাপক উত্তেজনা,অঘটনের আশংকা

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

রাঙ্গুনিয়ায় উপজেলা যুবলীগ সভাপতি শামসুদ্দোহা সিকদার আরজু এর বিরুদ্ধে  সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠার পর সাধারণ নেতা- কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে রাজনৈতিক পাঁড়ায়।যেকোন সময় অঘটনও ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয়রা।অনতিবিলম্বে স্থানীয় সাংসদ ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদের হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে বলেও জানান তারা।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের ব্যানারে সহস্রাধিক নেতা কর্মী  নিয়ে গত ১০ অক্টোবর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগ নিয়ে একুশে পত্রিকার সম্পাদক আজাদ তালুকদারের দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচী পালন করেছে যুবলীগ নেতৃবৃন্দ।অবশ্য  এ  স্টাটাসে কারো নাম উল্লেখ ছিলো না বলে আজাদ তালুকদারের দাবি।

মিছিলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কয়েকহাজার নেতৃবৃন্দ অংশ নিয়েছিল। মিছিলটি উপজেলার ইছাখালী মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু হয়ে কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে থানা সদরে গিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা যুবলীগ সভাপতি শামসুদ্দোহা সিকদার আরজু সাংবাদিক আজাদ তালুকদারকে  উদ্দেশ্য করে চাটগাঁ ভাষায় বিভিন্ন বক্তব্য দেন। তার এই বক্তব্যে সাংবাদিক আজাদ তালুকদারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবী করেন তিনি। এই সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি সংবাদ একুশে পত্রিকা সহ বিভিন্ন অনলাইনে প্রকাশের পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের মধ্যে।

যুবলীগ সভাপতির এই বক্তব্যের প্রতিবাদে বিভিন্ন বিবৃতি দেন চট্টগ্রামের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। যা অনলাইন ও পত্রিকায়ও ছাপানো হয়।

এই ব্যাপারে আজাদ তালুকদার বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আমাকে সরাসরি আক্রমণ করে ‘রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগ নিয়ে কটূক্তিকারী’ উল্লেখ করে আমার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের ব্যানারে এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করে আরজু সিকদার। সেখানে আমার বিরুদ্ধে অত্যন্ত আপত্তিকর, আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের ব্যানার প্রদর্শন করা হয়, যা শুধু একজন সংবাদকর্মী আজাদ তালুকদার নয়, পুরো গণমাধ্যমের জন্য হুমকিস্বরূপ।’

তবে আরজু সিকদারকে নিয়ে ভুল সংবাদ ছড়ানো হচ্ছে এবং সাংবাদিক নেতৃবৃন্দদের ভুল বুঝানো হচ্ছে জানিয়ে উপজেলা যুবলীগ এক প্রতিবাদ বিবৃতি দেন।

উপজেলা যুবলীগ সভাপতি শামসুদ্দোহা সিকদার আরজু ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুচের যৌথ স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিটি হলো, ‘রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মেয়র, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জনাব শাহজান সিকদার ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জনাব আলহাজ্ব শামসুদ্দোহা সিকদার আরজু আপন চাচাতো ভাই। তাদের মধ্যে পারিবারিক ও রাজনৈতিক দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। একুশে পত্রিকার সম্পাদক আজাদ তালুকদার মেয়র শাহজাহান সিকদারের আপন শালা। পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিবাদকে পূজি করে আজাদ তালুকদার বোনের জামাই এর পক্ষ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ’কে নিয়ে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকতার নামে যুবলীগের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সমাবেশ করেছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ। এখানে কাউকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়নি, শুধু মাত্র অপপ্রচারের প্রতিবাদ করা হয়েছে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে ভুল তথ্য দিয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের আমরা সম্মান করি, এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রশাসন ও সাংবাদিকদের অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এই প্রতিবাদ বিবৃতিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়।

উপজেলা যুবলীগের এই প্রতিবাদের জবাবে সাংবাদিক আজাদ তালুকদার বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মেয়র শাহজাহান সিকদার আমার ভগ্নিপতি হলেও তার রাজনীতি, কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই। আরজু সিকদার বা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগ নিয়ে অপপ্রচার বা কটূক্তি করেছি বলে বারবার বলে বেড়ালেও প্রকৃতপক্ষে কারো নাম উল্লেখ না করে তথ্য চেয়ে দেওয়া ওই একটি ফেসবুক পোস্ট ব্যতিত আর কখন কোথায় কীভাবে অপপ্রচার চালিয়েছি তা আরজু সিকদার বলতে পারছে না। একই সাথে এধরনের স্ট্যান্টবাজি এবং বানোয়াট অভিযোগ কিংবা প্রতিবাদ করে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকির দায় এবং তার কৃতকর্ম থেকে আরজু সিকদার রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছেন।’

এদিকে সাংবাদিক আজাদ তালুকদার ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি শামসুদ্দোহা সিকদার আরজুর বিরোধ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুক সহ বিভিন্ন ভাবে পক্ষে বিপক্ষে মন্তব্য করছেন বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। যুবলীগের প্রতিবাদ সমাবেশের পর থেকে উপজেলা জুড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, “যুবলীগের ওই মিছিলের পর থেকে রাঙ্গুনিয়ায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সিকদার পরিবার ও যুবলীগ নেতৃবৃন্দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে রাঙ্গুনিয়ায় সাংবাদিক আজাদ তালুকদারের না আসাটাই ভাল হবে। তবে এই উত্তেজনা নিরসনে তথ্যমন্ত্রী ও রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ ড. হাছান মাহমুদ দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ নিরসনে পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা করি।”