রাঙ্গুনিয়ায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

রাঙ্গুনিয়ায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে গোপন সংবাদে ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই সময় ছিনতাই হওয়া স্থানীয় এক সাংবাদিকের ক্যামরা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ছিনতাইকারীর নাম জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বদি জাহাঙ্গীর ওরপে পালক জাহাঙ্গীর (৩০)। সে উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড নুইন্নার বাপের বাড়ির মৃত আমিরুজ্জামানের ছেলে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) বিকালে ছিনতাইয়ের বিষয়ে সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে এর আগেও রাঙ্গুনিয়া থানায় হত্যা ও পরিবেশ আইনে পৃথক দুটি মামলা ছিল। মরিয়মনগর ডিসি সড়কে ছিনতাই রুখতে পর্যাপ্ত সড়ক বাতি ও পুলিশি টহল জোরদার করার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ছিনতাইয়ের স্বীকার মো. জাবেদ বলেন, গত ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আমি স্থানীয় সংবাদকর্মী ইসমাঈল হোসেনের ক্যামরাটি নিয়ে সিএনজি অটোরিক্সা যোগে ধামাইরহাট থেকে মরিয়মনগরে যাচ্ছিলাম। আমাদের গাড়িতে আরও ৩ জন যাত্রী ছিল। যাওয়ার পথে মরিয়মনগর ডিসি সড়কের সন্তোষ বাবুর ঘাটা এলাকায় এলে ৩ জন মুখোশধারী লোক অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমাকে মারধর করে আমার হাতে থাকা ডিএসএলআর ক্যামরা ও মুঠোফোনটি নিয়ে নেয়। এছাড়া অন্য যাত্রী খোরশিদা বেগমের ৩ জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, ১টি আংটি সহ অন্যান্য যাত্রীদের মুঠোফোন ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। পরে আমি সহ অন্যান্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে থানায় মামলা দায়ের করি।”

রাঙ্গুনিয়া থানার এসআই ইসমাঈল হোসেন জুয়েল বলেন, ‘ছিনতাইয়ের ঘটনায় আমরা গোপন সংবাদে অভিযান চালিয়ে বুধবার দুপুরের দিকে একজনকে গ্রেপ্তার করি। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাকী আসামীদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।’

উত্তর রাঙ্গুনিয়া ধামাইরহাট এলাকার ব্যবসায়ী ও ইউপি সদস্য কাজী মঈন জানান, ইদানিং এই সড়কে প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। গত কয়েকমাসে এই সড়কে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যুর ঘটনা সহ পৃথক ৩টি ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন ইউপি সদস্য মো. শাহ আলম ও অন্য এক যুবলীগ নেতা কাঞ্চন আহত হয়েছিলেন। এসব ঘটনার পরও ছোটখাট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেই চলেছে। ছিনতাই রুখতে মরিয়মনগর ডিসি সড়কে পর্যাপ্ত সড়ক বাতির ব্যবস্থা করা সহ পুলিশি টহল জোরদার করা জরুরী বলে তিনি জানান। এছাড়া লালানগরের বেরিবাঁধ এলাকায় যদি একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা যেতো তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণে থাকতো বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মরিময়মনগর ডিসি সড়ক সহ বিভিন্ন সড়কে পুলিশি টহল আরও জোরদার করা হবে। ছিনতাই সহ যেকোন ধরণের অপরাধ রুখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’