রাঙ্গুনিয়ার বহুল আলোচিত আইয়ুব হত্যা মামলার আসামী রাঙামাটিতে গ্রেফতার

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আলোচিত আইয়ুব হত্যা মামলার আসামী ওয়াকিলকে গ্রেফতার করেছে রাঙামাটির কোতয়ালী থানা পুলিশ।

বুধবার বিকেলে পর্যটন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহেদুল হক রনি। আটককৃত ওয়াকিল আহাম্মদ রাঙ্গুনিয়ার বহুল আলোচিত আইয়ুব বাহিনীর প্রধান আইয়ুব হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার (জিআর-২০৮/১৯ ধারা-৩০২/৩৪ তারিখ: ০৪/১০/২০১৯ইং) তিন নাম্বার আসামী।

ওয়াকিল রাঙ্গুনিয়ার আব্দুস সোবহান এর ছেলে বলে জানাগেছে। আইয়ুব হত্যা মামলার পর থেকে ওয়ারেন্টভূক্ত অন্যান্য আসামীর ন্যায় ওয়াকিলও পলাতক ছিলো।

কোতয়ালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, রাঙ্গুনিয়া থানা থেকে আইয়ুব হত্যা মামলার আসামী ওয়াকিল রাঙামাটির পর্যটন এলাকায় অবস্থান করছে, তাকে গ্রেফতারে সহযোগিতা চেয়ে একটি বার্তা পাঠায় রাঙামাটিতে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কোতয়ালী থানার এসআই আল-আমিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম পর্যটনের দেওয়ান পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ওয়াকিলকে আটক করে। এসআই আল-আমিন জানিয়েছেন, গ্রেফতারের বিষয়টি জানালে আসামীকে নিয়ে যেতে রাঙ্গুনিয়া থানা থেকে পুলিশের একটি টিম রাঙামাটিতে রওয়ানা হয়েছে।
আইয়ুব হত্যা মামলার বাদি জাহেদা জানিয়েছেন, আমার স্বামীকে অক্টোবরের চার তারিখে বাসায় ফেরার পথে রাঙ্গুনিয়ার ধামাইর হাটে রাস্তার উপর গুলি করে। মোহসেন, হাসান ও ওয়াকিল আহাম্মদের নেতৃত্বে মোট ছয়জন সন্ত্রাসী অটোরিক্সাযোগে এসেগুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহতাবস্থায় আইয়ুবকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে গেলে ১৫দিন চিকিৎসাধীন থেকে সে মারা যায়। আইয়ুব ইসলামপুর ইউনিয়নের খলিফাপাড়া গ্রামের মৃত ইছাহাক মিয়ার পুত্র।

রাঙ্গুনিয়ার স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ৮০ দশকের পর থেকে এই আইয়ুর আর মেহোরুজ্জমার পারিবারিক বিরোধের মধ্য দিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় প্রথম সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটে। আইয়ুব মেহেরুজ্জমা দু’জনেই গড়ে তোলেন আলাদা দুটি সন্ত্রাসী বাহিনী। একটা মেহেরুজ্জমা বাহিনী, আরেকটা আইয়ুব বাহিনী। সম্পর্কে তারা একে অপরের ভাইরা ভাই। এ দুই বাহিনীর হাতে গত ৩৯ বছরে প্রায় ২০-২২ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আইয়ুর বাহিনীর আইয়ুব ১৯৯১ সালের ১৭ মার্চ দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের সোনারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মো. কবির আহমেদ ও মো. ছবুর আহমেদ নামে দুই সহোদরকে ধরে নিয়ে প্রকাশ্যে খেজুর কাঁটা দিয়ে চোখ উপড়ে ফেলে দুই ভাইয়ের চোখ-মুখ এসিডে ঝলসে দেয়।

এ ঘটনায় বিচার চাইতে গিয়ে আইয়ুব বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে খুন হন তাদের মুক্তিযোদ্ধা পিতা আবদুস সোবহান। যাকে নিজের হাতে কবর খুঁড়িয়ে জীবন্ত মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধা সোবহান হত্যা মামলায় আইয়ুবের যাবজ্জীবন সাজা হয়। সে ১৯৯৬ সালে গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ ১৩ বছর কারাভোগ করে ২০১৫ সালে জামিনে বের হয়।

কারাগার থেকে জামিনে বের হবার পর আইয়ুব অনেকটা শান্ত হয়ে যায়। নিরিবিলি থাকার জন্য নিজ বাড়িঘর ছেড়ে লালানগর ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকার ফরিদ মিয়ার বিল্ডিংয়ে ভাড়া থাকতেন বলে জানা গেছে।