যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম বন্দরে শ্রমিকদের ৮ দিনের ধর্মঘট

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় কনটেইনার বন্দরে এক হাজার ৯০০ জনেরও বেশি শ্রমিক রোববার (২১ আগস্ট) থেকে আট দিনের ধর্মঘট শুরু করতে চলেছে। শ্রমিকদের এই ধর্মঘটে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে শ্রমিকদের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও শিপিং সংস্থা।

ইংল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে ফেলিক্সস্টোর শ্রমিকরা বেতন নিয়ে অসন্তোষের কারণে ধর্মঘটে নেমেছে। জীবিকা নির্বাহের ব্যয় দ্রুত বাড়ার সঙ্গে শ্রমিকরাও তাদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ধর্মঘটে নেমেছেন।

এশিয়ার সঙ্গে পণ্য আমদানি-রপ্তানির অন্যতম প্রধান হাব এ বন্দর। ধর্মঘটের ফলে এশিয়ার পুরো সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত ঘটবে বলেই বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।

ইউনাইট ইউনিয়নের ডক বিষয়ক কর্মকর্তা ববি মরটন বলেন, ‘ধর্মঘটের কারণে বড় ধরনের ব্যাঘাতের সৃষ্টি হবে এবং যুক্তরাজ্যজুড়ে সরবরাহ চেইনে বিশাল আঘাত হানবে। তবে এই দ্বন্দ্ব পুরোটাই প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ কারণে তৈরি হয়েছে’।

‘আমাদের সদস্যদের ন্যায্য মূল্য দেওয়ার সামর্থ্য প্রতিষ্ঠানটির থাকা সত্ত্বেও তারা তা করেনি,’ বলেন তিনি।

শুক্রবার ফ্লেক্সিস্টো-এর অপারেটর হাচিনসন পোর্টস জানায়, তাদের বিশ্বাস ৭ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি এবং ৫০০ পাউন্ড এককালীন অর্থ যথেষ্ট। তাদের দাবি, ইউনিয়নের ৫০০ কর্মী যারা সুপারভাইজার, ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন কেরানির কাজ করেন, তারা এসব মেনেও নিয়েছিল।

তবে ডক কর্মীদের ইউনিয়ন ইউনাইট বলছে, বর্তমান মুদ্রস্ফীতির হারের তুলনায় এই মজুরি খুবই কম।

হাচিনসন পোর্টের মুখপাত্র বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের সরবরাহ চেইনে এই ধর্মঘটের প্রতিক্রিয়ার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ দুঃখিত’।

১৭ আগস্ট প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় জুলাই মাসে ব্রিটেনের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারির পর এই হার সর্বোচ্চ। অনেক অর্থনীতিবিদের ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে এই হার আগামী বছরের প্রথম তিন মাসে ১৫ শতাংশে গিয়ে পৌঁছাবে। একইসঙ্গে জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের মূল্যও বাড়বে।

জীবিকা নির্বাহে ব্যয়বৃদ্ধির কারণে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রেল ও বাস শ্রমিকরাও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ধর্মঘট পালন করেছে।

সূত্র: রয়টার্স