যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে কঠিন পরীক্ষা

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: উত্তরসূরীর জন্য দ্বন্দ্ব-বিভেদ আর বিভক্তিতে ভরা একটি দেশ রেখে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। দ্য ইকোনমিস্টের জরিপ ও অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের বিশ্লেষণ বলছে, এই মুহূর্তে এগিয়ে থাকা লিজ ট্রাস অথবা তার প্রতিদ্বন্দ্বী ঋষি সুনাক, আগামী সপ্তাহে যে-ই প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসবেন, তাকে ১৯৭০ সালের পর থেকে সবচেয়ে কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।

যুক্তরাজ্যে আগামী অক্টোবর মাসে গার্হস্থ্য জ্বালানি বিল চোখে জল আনার পর্যায়ে বাড়তে চলেছে, যা পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হবে বহু ব্রিটিশ নাগরিককে। দেশটিতে গত জুলাই মাসে ভোগ্যপণ্যের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে, যখন প্রকৃত মজুরি কমছে ২০ বছরের মধ্যে দ্রুততম হারে।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ১৯৯০ সালের পর থেকে দ্রুততম হারে সুদ বাড়াচ্ছে, যার ফলে ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়ে যাচ্ছে। যদিও বেকারত্বের হার কম, তবু অনেক অর্থনীতিবিদ একটি মন্দার আশঙ্কা করছেন, যা অন্তত এক বছর বা তারও বেশি স্থায়ী এবং শিগগির শুরু হবে। এগুলো অবশ্যই নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করবে। কিন্তু কীভাবে?

নতুন নেতার সামনে ‘জরুরি’ হিসেবে চিহ্নিত অর্থনৈতিক সমস্যার পাহাড় রাজনৈতিক সমস্যাকেও বোঝায়। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির চেয়ে জনসমর্থনে ১০ শতাংশ পয়েন্টে পিছিয়ে রয়েছে, যা ১৯৭০ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ ঘাটতি।

ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ বলছে, ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যে জরিপ ব্যবধানের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অর্থনৈতিক মৌলিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, প্রকৃত মজুরিতে প্রতি এক শতাংশ পয়েন্ট পতনের সঙ্গে শাসক দল জরিপে এক শতাংশ পয়েন্ট হারানোর সম্পর্ক রয়েছে।

এবার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী সাধারণ ভোটাররা নন, বেছে নিচ্ছেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির মাত্র ১ লাখ ৬০ হাজার সদস্য। সবশেষ ১১ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর (এডওয়ার্ড হিথের পর থেকে) মধ্যে সাধারণ নির্বাচনে জয়ী না হয়েই ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করা ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হবেন লিজ ট্রাস অথবা ঋষি সুনাক।

ক্ষমতালাভের পর সরকারপ্রধান হিসেবে কনজারভেটিভদের নতুন নির্বাচনী ম্যান্ডেট দেওয়া এবং বরিস জনসনের বিশৃঙ্খল শাসন থেকে দূরত্ব তৈরির জন্য একটি আগাম নির্বাচনের ডাক দিতে পারেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি মোটেও তার পক্ষে নয়।

রাজনৈতিক পরামর্শক সংস্থা ইলেক্টোরাল ক্যালকুলাসের প্রধান মার্টিন ব্যাক্সটার মনে করেন, যুক্তরাজ্যে যদি আগামীকাল নির্বাচন দেওয়া হয়, তাহলে লেবার পার্টি ১৬ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। তাই নতুন কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রী বিচক্ষণ হলে নিজেদের নির্বাচনী মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন নির্বাচন দেওয়া থেকে বিরতই থাকবেন। দেশটিতে আপাতত ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের আগে সাধারণ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা নেই।

আর ক্রমবর্ধমান জ্বালানি বিলের বাস্তবতায় জরিপে কনজারভেটিভদের ব্যবধান আরও প্রশস্ত হতে পারে। ইকোনমিস্টের ধারণা, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের দুর্বল অর্থনৈতিক পূর্বাভাস যদি সঠিক প্রমাণিত হয়, তাহলে আগামী শরতের মধ্যেই লেবার পার্টির চেয়ে ১৫ শতাংশ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়বে কনজারভেটিভরা। সেই সময় প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্বাচনী ভাবনা হবে ভয়াবহ।

২০১০ সালে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ঠিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল কনজারভেটিভরা। আজ ১২ বছর পরে এখনো তা সংস্কারের দরকার হচ্ছে।