মিরপুরের ঘটনায় ময়নাতদন্তে স্ত্রী-পুত্রের পাকস্থলী ও পুত্রের মুখে বিষের গন্ধ মিলেছে

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

মিরপুরের কাফরুল থেকে উদ্ধার হওয়া স্বামী-স্ত্রী ও তাদের একমাত্র পুত্রের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে স্ত্রী ও পুত্রের পাকস্থলীতে এবং বায়েজিদের মুখে মিলেছে বিষের গন্ধ।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) দুপুরের দিকে ময়নাতদন্ত শেষে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. একেএম মঈন উদ্দীন জানান, সকাল ১০টা থেকে ময়নাতদন্ত শুরু হয়। শেষ হয় দুপুর একটার দিকে।

তিনি জানান, তিনটি মরদেহ থেকেই ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কিডনি, লিভার, পাকস্থলী থেকে টিস্যু সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো এখন পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এছাড়া ময়নাতদন্তের সময় বায়েজিদের গলায় একটি দাগ দেখা গেছে। আর তার মুখে মিলেছে বিষের গন্ধ। এর পাশাপাশি স্ত্রী ও তার ছেলের পাকস্থলীতেও বিষের গন্ধ পাওয়া গেছে।

সব রিপোর্ট হাতে পেলে, পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান ফরেনসিক বিভাগের এ চিকিৎসক।

পুলিশ জানায়, বায়েজিদের ঘরের দেয়ালে সাঁটানো ৫০ থেকে ৬০টির মতো চিরকুট উদ্ধার করা হয়। আর এসব চিরকুট দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বায়েজিদ হতাশাগ্রস্থ ছিলেন।

মিরপুর ডিভিশনের ডিসি মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘ওই বাসায় গিয়ে আমরা দেখতে পাই ছেলে এবং স্ত্রী বিছানায় শুয়ে আছেন। আর বায়েজিদের দেহ ঝুলে আছে ঘরের সিলিং ফ্যানে। ঘটনাস্থল থেকে আমরা বেশকিছু চিরকুট পেয়েছি। এছাড়া বিভিন্ন আলামত উদ্ধারসহ ময়নাতদন্তের জন্য তিনটি মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছিল। ময়নাতন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তিনজনের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

তিনি আরও জানান, দেয়ালে সাঁটানো চিরকুটে অনেক কিছুই লেখা ছিল। এর মধ্যে কিছু চিরকুটে লেখা ছিল ‘আমাদের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’ বুধবার (৯ অক্টোবর) মধ্যরাত বা ভোরের যেকোনো সময়ের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আর পুলিশ বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (ইউডি) করেছে।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর কাফরুল থানার মিরপুর-১৩ নম্বর সেকশনের একটি বাসা থেকে সরকার মোহাম্মদ বায়েজিদ ওরফে এসএম বায়েজিদ (৪৭), স্ত্রী অঞ্জনা (৪০) এবং তাদের একমাত্র সন্তান ফারহানের (১৭) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।