মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে বাংলাদেশের ২৯০

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: তামিম ইকবাল ঝড়ো ফিফটি পেলেন। পরের দিকের ব্যাটাররা আশা জাগালেন। কিন্তু কেউই ইনিংস লম্বা করতে পারলেন না। তবে মাহমুদউল্লাহ ভুল করেননি। ভালো শুরু টেনে নিয়ে ইনিংস বড় করলেন। তার ব্যাটে ভর করেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে লড়াই করার পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ।

আজ (রবিবার) হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে করেছে ২৯০ রান। মাহমুদউল্লাহর হার না মানা ৮০ রানের সঙ্গে তামিমের ৫০ ও আফিফের ৪১ রানে ভালো সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে সফরকারীরা। যদিও প্রথম ইনিংসে ৩০৩ রান করে হারতে হয়েছে তামিমদের।

প্রথম ওয়ানডে হেরেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজ হওয়ায় আজকের ম্যাচটি সফরকারীদের জন্য সিরিজ বাঁচানোর। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে হাসলো মাহমুদউল্লাহর ব্যাট। প্রথম ম্যাচে তিনি ছাড়া হাফসেঞ্চুরি পেয়েছিলেন ব্যাট করা সবাই। সেই অপূর্ণতাই সম্ভবত ঘুচলো বাঁচা-মরার ম্যাচে। অন্য প্রান্তে উইকেট হারালেও দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত খেলেছেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ৮৪ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ৮০ রানের ইনিংস।

মাহমুদউল্লাকে যোগ্য সঙ্গে দিয়েছেন আফিফ হোসেন। পঞ্চম উইকেটে তারা গড়েন ৮১ রানের জুটি। আফিফ খেলেন ৪১ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ৪১ রানের ইনিংস।

এর আগে বড় জুটির আভাস ছিল মুশফিকুর রহিম-নাজমুল হোসেন শান্তর খেলাতেও। সাবলীল ব্যাটিংয়ে পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। কিন্তু তাদের পথচলায় ছেদ পড়ে ‍মুশফিকের আউটে। খানিক পর শান্তও ধরেন প্যাভিলিয়নের পথ।

আগের ওয়ানডেতে হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন ‍মুশফিক। ছিলেন অপরাজিত। আজও ভালো শুরু পেয়েছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার। সিঙ্গেলসে জোর দিয়ে চলছিল তার রানের গাড়ি। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ওয়েসলি মাদেভেরের বলে ২৫ রানে ফিরে যান মুশফিক। টনি মুনিয়োঙ্গার হাতে ধরা পড়ার আগে ৩১ বলের ইনিংসে মারেন এক বাউন্ডারি।

মুশফিকের বিদায়ের পর অবিচল ছিলেন শান্ত। লিটন দাসের চোটে একাদশে জায়গা পেয়ে সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছিলেন এই ব্যাটার। সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার উপকরণ ছিল তার ব্যাটিংয়ে। কিন্তু ভালো শুরু পেয়েও ইনিংস খুব বেশি বড় করতে পারেননি। ৩৮ রানে ফিরতে হয়েছে ওই মাদেভেরের শিকার হয়েই। উইকেটকিপার রেগিস চাকাভার গ্লাভসে ধরার পড়ার আগে শান্ত ৫৫ বলের ইনিংস সাজান ৫ বাউন্ডারিতে।

আরও একটি হাফসেঞ্চুরি তামিম ইকবালের। আরেকটি মাইলফলক স্পর্শ। কিন্তু পঞ্চাশেই বারবার আটকে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেও ফিফটি পেয়েছেন। তবে অঙ্কটাকে সেঞ্চুরিতে নিতে পারছেন না বাঁহাতি ওপেনার।

সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে আবারও জ্বলে উঠেছিল তামিমের ব্যাট। এবার জিম্বাবুয়ে বোলারদের শাসন করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শুরু থেকে আক্রমণ চালিয়ে বাউন্ডারি আদায় করে নিয়েছেন। তার ঝড়ো ব্যাটে দলীয় স্কোর হচ্ছিল সমৃদ্ধ। ব্যক্তিগত অর্জনে হাফসেঞ্চুরিও যোগ হলো তার। কিন্তু ফিফটিতে আটকা পড়লেন আবার। আগের ম্যাচে ৬২ রানের ইনিংস খেলা তামিম এবার আউট ৫০ রানেই।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার ৫৫তম হাফসেঞ্চুরি। ধারাবাহিক রান পাওয়ার জন্য বাহবা পাবেন তামিম। তবে ভালো শুরু পেয়েও স্কোর বাড়িয়ে নিতে না পারায় দায়টাও নিতে হবে তাকে। বিশেষ করে, তার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের কাছে দলের প্রত্যাশা বেশিই থাকবে। তানাকা চিভাঙ্গার বলে আউট হওয়ার আগে ৪৫ বলে ১০ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৫০ রান করেন দেশসেরা ওপেনার।

তামিমের সঙ্গে ৭১ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন এনামুল। লিটন না থাকায় প্রমোশন পেয়ে ওপেনিংয়ে নামার সুযোগ হয় তার। শুরুটা মন্দ ছিল না। তামিমকে সঙ্গ দিয়ে নিজেও স্কোর বাড়াতে সাহায্য করছিলেন। যদিও তার সেই পথচলা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২৫ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২০ রান করে রান আউটের শিকার এই ডানহাতি ব্যাটার।

জিম্বাবুয়ের সবচেয়ে সফল বোলার সিকান্দার রাজা। এই স্পিনার ১০ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ওয়েসলি মাদেভেরে ৯ ওভারে ৪০ রান খরচায় পেয়েছেন ২ উইকেট।