মানবপাচার রোধে ইউরোপের দেশগুলোর সহায়তা চায় সরকার

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে মানবপাচার নিয়ে আয়োজিত পর্যালোচনা সভা।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা পেলে মানবপাচার রোধে আরও কঠোর ভূমিকা রাখতে পারবে বাংলাদেশ। আর মানবপাচারকারীদের কঠোর শাস্তি আর ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করলে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ইইউ।

রোববার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে মানবপাচার নিয়ে আয়োজিত এক পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা।

‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই গবেষণার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা ইউএনওডিসি, গ্লো অ্যাক্ট বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সমন্বয়ে এই পর্যালোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলেন, ‘ইউরোপের যেসব দেশে বাংলাদেশিরা বেশি মানবপাচারের শিকার হচ্ছে, সেই সব দেশের আইনি সহায়তা পেলে তা বন্ধ করা সম্ভব।’

মালয়েশিয়া বিনা খরচে ১০ হাজার শ্রমিক নেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘দালালের মাধ্যমে না গিয়ে সরাসরি সরকারিভাবে গেলে বাংলাদেশ রেমিট্যান্স পাবে। একটি ফ্রেমওয়ার্কে যদি যুক্ত হওয়া যায় তবে সব দেশই এই মানবপাচারের কবল থেকে মুক্তি পাবে।’

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ‘মানবপাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য পূরণ অন্যান্য রাষ্ট্রের কাছেও সহযোগিতা চায়, যেন তাদের সীমান্ত ব্যবহার করে পাচারকারীরা কোনো মানুষকে পাচার করতে না পারে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটেলি বাংলাদেশকে মানবপাচারের ঘটনার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘২০১৫ থেকে চলতি বছর পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার মানুষ মানবপাচারের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। কারণ তাঁদের কোনো হদিস নেই। অভিবাসনের নামে যে মানবপাচার হচ্ছে তা বন্ধ করতে সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ সংক্রান্ত যত সহযোগিতা বিশেষ করে অর্থ দেবে ইইউ।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলাবাহিনী পাচারকারীদের ধরতে এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা দিতে সব সময় তৎপর।’

অনলাইনে/অফলাইনে বাংলাদেশ থেকে দালালেরা মানবপাচারে তৎপর উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সাতটি বিভাগীয় শহরে আলাদা ট্রাইব্যুনাল করেছি।’ সবাই এগিয়ে এলে বাংলাদেশ এই অঞ্চলে মানবপাচার রোধে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেন, প্রবাসীকল্যাণ সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর টুওমো পৌটিয়াইনেন, আইওএমের উপ মিশন প্রধান ফাতিমা নুসরাত গাজ্জালীসহ আরও অনেকেই বক্তব্য দেন।