মাদকের মামলায় পুলিশের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

বরখাস্ত টিএসআই (টাউন সাব ইন্সপেক্টর) সিদ্দিকুর রহমান ও বাবলু খন্দকার।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

রোববার চট্টগ্রাম আদালতের প্রসিউকিউশন শাখায় অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এসআই রাছিব খান।

অভিযোগপত্রে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সাবেক টিএসআই সিদ্দিকুর রহমান ও রেলওয়ে পুলিশের সাবেক টিএসআই বাবলু খন্দকারকে আসামি করা হয়েছে। দুইজনই কারাগারে আছেন।

মামলার অজ্ঞাত এক আসামির কথা বলা হলেও তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় দুইজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা রাছিব খান।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) মো. কামরুজ্জামান জানান, অভিযোগপত্রটি তারা গ্রহণ করেছেন। যাচাই বাছাই শেষে তা আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, টিএসআই বাবলু খন্দকার ও সিদ্দিকুর একসাথে চট্টগ্রাম নগর পুলিশে (সিএমপি) কর্মরত থাকার সময় থেকে পরিচিত ছিলেন। পুলিশে চাকরির সুবাদে তারা বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করতেন। যেদিন টিএসআই সিদ্দিকুর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সেখানে বাবলু খন্দকারও উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি সটকে পড়েন এবং কর্মস্থল না গিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।

গত ১৪ জুন নগরীর ডবলমুরিং থানার সিজিএস কলোনি এলাকা থেকে র‌্যাব-৭ ও সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের যৌথ অভিযানে ১০ হাজার ইয়াবা ও ৮০ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার হন টিএসআই (টাউন সাব ইন্সপেক্টর) সিদ্দিকুর রহমান।

সেদিন তার কাছ থেকে যে ৮০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়, তা ঘটনার কিছুদিন আগে ঢাকার শান্তিনগরের এসএ পরিবহনের শাখা থেকে টিএসআই বাবলু চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখায় সিদ্দিকুরের নামে পাঠিয়েছিলেন। টাকাগুলো সিদ্দিকুর এসএ পরিবহন থেকে সংগ্রহ করার প্রমাণ পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয় অভিযোগপত্রে।

গ্রেপ্তারের পর সিদ্দিকুর তার ইয়াবা কারবারে টিএসআই বাবলু খন্দকার নাম নাম প্রকাশ করেন। এছাড়াও তাদের সঙ্গে আরও একজনের জড়িত থাকার কথা বললেও তার নাম জানাতে পারেননি।

এঘটনায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এসআই সঞ্জয় গুহ বাদী হয়ে সিদ্দিকুর রহমান, বাবলু খন্দকার ও অজ্ঞাত একজনের বিরুদ্ধে ডবলমুরিং থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেন।

ঘটনার পরপর রেলওয়ে পুলিশ থেকে বরখাস্ত হওয়া বাবলু পালিয়ে আত্মগোপন করেন। গত ৩ জুলাই রাতে র‌্যাব-৪ এর সদস্যরা বাবলু খন্দকার ও তার স্ত্রী শিউলি আক্তারকে ১০ হাজার ইয়াবাসহ ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করেন। পরে বাবলু খন্দকারকে চট্টগ্রামের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।