মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ গড়বে ন্যায়সঙ্গত বিশ্ব, আশা শেখ হাসিনার

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে গান্ধীর ১৫০তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এ আশাবাদের কথা শোনান।

শেখ হাসিনা বলেন, “গান্ধীজি একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক, একজন রাষ্ট্রনায়ক এবং সাধু।  তিনি তার জীবনকে মানবজাতির জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি ছিলেন আশার বাতিঘর, অন্ধকারে আলো এবং হতাশায় ত্রাণকর্তা।

“তিনি তার উজ্জ্বল ও মন্ত্রমুগ্ধ নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন, কোনো ব্যক্তি অহিংস উপায়ে পৃথিবীকে নাড়া দিয়ে এমন সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে পারে।”

উপমহাদেশের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও আধ্যাত্মিক নেতা, ভারতের জাতির পিতা, বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে অগ্রগামী ব্যক্তিদের একজন ছিলেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। ১৮৬৯ সালের ২রা অক্টোবর তিনি জন্ম নেন। ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি বৃটিশদের হাত থেকে স্বাধীন হয়ে ভারত-পাকিস্তান সৃষ্টির দেড় বছর পরেই দিল্লির বিরলা হাউজে ঘাতকের গুলিতে নিহত হন মহাত্মা গান্ধী।

সামাজিক অবস্থান, প্রথা, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালবাসার কারণে তাকে মহাত্মা উপাধি দেওয়া হয়। অহিংস বা সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এই কিংবদন্তীকে বিশ্বজুড়ে মানুষ মহাত্মা গান্ধী নামেই চেনে।

ভারত, কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ সাত দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতিতে ‘লিডারশিপ ম্যাটারস- রিলেভ্যান্স অব মহাত্মা গান্ধী ইন দ্য কনটেম্পোরারি ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল ভারতীয় মিশন।

অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে নিজেকে সম্মানিত বোধ করার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “এই বিশেষ দিনে, আমি চাই যে গান্ধীজির মানবিক আদর্শ এবং নীতিগুলি সমস্ত বিভাজনে জয় লাভ করবে এবং আমাদের আগত প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত বিশ্ব প্রতিষ্ঠা করবে।

“আমরা এমন এক বিশ্বে বাস করছি, যেখানে ঘৃণা ও ধর্মান্ধতা বিশ্বকে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থার দিকে পরিচালিত করছে; মানব জাতিকে আগের চেয়ে আরও বেশি বিভক্ত করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গান্ধীজির জীবন দর্শন এবং সকল মানুষের প্রতি তার দ্বিধাহীন সমর্থন করার আদর্শ ক্ষুধা, দারিদ্র্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলির মতো বিশ্বব্যাপী উদ্বেগময় চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জগুলি কার্যকরভাবে মোকাবেলায় আজও আমাদের একত্রিত করতে পারে।”

শেখ হাসিনা বলেন, গান্ধীজি জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করতেন; যা (ক্ষমতা) ব্যক্তির মধ্যে থাকে এবং যার মালিক জনগণ নিজেই। সামাজিক অবস্থান, প্রথা, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি তার নিঃস্বার্থ ভালবাসা এবং স্নেহ তাকে ‘মহাত্মা’ উপাধি দিয়েছিল।

“তার সহনশীলতা, অহিংস এবং সম্প্রীতির সহাবস্থান নীতিগুলো একটি জাতিকে গড়ে তুলতে আমাদের জন্য পদনির্দেশক। আজও পৃথিবীর যেখানে গণতন্ত্র চর্চা হয় সেখানে গান্ধীর বৈচিত্রময় আদর্শগুলো অনুসরণ করা হয়।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৪৬ সাল থেকে বাংলাদেশ গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট রয়েছে, এ জন্য আমরা গর্বিত। পল্লী উন্নয়ন, শান্তি এবং সামাজিক সম্প্রীতির জন্য এটি গান্ধীবাদী দর্শন অনুসরণ করে।”

বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে গান্ধীর আদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিল বলে জানান তার কন্যা।

তিনি  বলেন, “গান্ধীজির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সাথে সাথে আমি আমার পিতা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করি, যিনি গান্ধীজি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন। ২০২০ সালের মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা।

“শান্তিকামী বাঙালির ওপর তৎকালীন পাকিস্তানী শাসকদের অত্যাচার ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে বঙ্গবন্ধুকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল গান্ধীজির সাধারণ মানুষের প্রতি ভালবাসা এবং অহিংস নীতি।”

শেখ হাসিনা বলেন, উসকানির মুখেও বঙ্গবন্ধু নিরব ছিলেন এবং অহিংস নীতির প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন। কিন্তু নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের উপর পাকহানাদার বাহিনী গণহত্যা চালানো শুরু করলে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ ভোরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াইয়ের আহ্বান জানান।