মধুমতী সেতুতে বাসের টোল ২০৫, সাইকেল-রিকশা ৫ টাকা

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: পদ্মা সেতুর পর খুলে দেয়া হলো দক্ষিণাঞ্চলবাসীর আরেক স্বপ্ন মধুমতি সেতু। গোপালগঞ্জ ও নড়াইল জেলার সীমান্তবর্তী মধুমতি নদীর কালনা পয়েন্টে নবনির্মিত সেতুটি দেশের প্রথম ও একমাত্র ৬ লেনের সেতু।

সোমবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পরপরই জনসাধারণসহ সেতুতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু করেছে। এ সেতু দিয়ে পারাপার হলে টোল দিতে হবে। মধুমতী সেতু পারাপারের জন্যে বড় বাসের ক্ষেত্রে ২০৫ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। সেতুতে সাইকেল-রিকশা-ভ্যান চালাতে দিতে হবে ৫ টাকা করে। মধুমতি সেতুর টোল নির্ধারণ করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

মধুমতি সেতু পারাপারের জন্য বড় ট্রেইলার ৫৬৫ টাকা, তিন বা ততোধিক এক্সেল বিশিষ্ট ট্রাক ৪৫০ টাকা, দুই এক্সেল বিশিষ্ট মাঝারি ট্রাক ২২৫, ছোট ট্রাক ১৭০ টাকা, কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাওয়ার ট্রলার ও ট্রাক্টর ১৩৫ টাকা, বড় বাসের ক্ষেত্রে ২০৫ টাকা, মিনিবাস বা কোস্টার ১১৫ টাকা, মাইক্রোবাস, পিকআপ, কনভারশনকৃত জিপ ও রে-কার ৯০ টাকা, প্রাইভেটকার ৫৫ টাকা, অটোটেম্পো, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, অটোভ্যান ও ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান ২৫ টাকা, মোটরসাইকেল ১০ টাকা এবং রিকশা, ভ্যান ও বাইসাইকেলের ক্ষেত্রে পাঁচ টাকা টোল নির্ধারণ করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে ভঙ্গুর জেলা ছিল নড়াইল। ঢাকা থেকে বেশি দূরত্বের পথ না হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় অর্থনীতিও ছিল সংকুচিত। গত সোমবার (১০ অক্টোবর) দেশের প্রথম ছয় লেনের মধুমতী সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে অন্য মাত্রা। আমূল পরিবর্তন আসবে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে। শিল্প ও যোগাযোগ হাব হয়ে উঠবে জেলাটি।

জানা গেছে, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে ৯৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে মধুমতি নদীর ওপর ৬৯০ মিটার দীর্ঘ মধুমতি সেতু নির্মিত হয়েছে যা স্থানীয়ভাবে কালনা সেতু নামে পরিচিত। তবে ২৭ দশমিক ১ মিটার চওড়া সেতুটিতে চারটি উচ্চ গতির লেন ৪ দশমিক ৩০ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ রোড এবং দুটি সার্ভিস লেনসহ ছয়টি লেন রয়েছে। তবে এটি নড়াইল, গোপালগঞ্জ, খুলনা, মাগুরা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, যশোর এবং ঝিনাইদহ জেলাকে সংযুক্ত করেছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে এ সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।