মওলানা ভাসানীর ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় স্মরণ

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: মজলুম জননেতা আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সন্তোষে তার পরিবার, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মুরিদান, ভক্ত, রাজনীতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করছে।

সকাল সাড়ে ৭টায় মজলুম জননেতার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইসচ্যান্সেলর অধ্যাপক . মো. ফরহাদ হোসেন। বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মিলাদ দোয়া মাহফিল এবং ক্যাম্পাসে অবস্থিত শাহ্ নাসিরউদ্দিন বোগদাদী এতিমখানায় কোরআন খতম এতিমদের জন্য খাবার পরিবেশন করা হবে।

এছাড়াও ভাসানীর মাজারের অদূরে দরবার হল আশপাশের এলাকায় দিনব্যাপী মেলা বসেছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার (১৬ নভেম্বর) আলাদা বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সবসময় ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তার (ভাসানীর) অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন দেশ জনগণের প্রতি তার গভীর ভালোবাসারই প্রতিফলন। মওলানা ভাসানীর আদর্শ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবে বলে প্রত্যাশা রাষ্ট্রপতির।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে মওলানা ভাসানীর আদর্শিক ঐক্য রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ছিল উল্লেখ করে বলেন, শোষণবঞ্চনাহীন প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের জন্য মওলানা ভাসানী আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।

১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে মাওলানা ভাসানীর জন্ম। সিরাজগঞ্জে জন্ম হলেও মাওলানা ভাসানী তার জীবনের বড় অংশই কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে।

মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী অধিকারবঞ্চিত অবহেলিত মেহনতি মানুষের অধিকার স্বার্থরক্ষায় আজীবন নিরবচ্ছিন্নভাবে সংগ্রাম করে গেছেন। জাতীয় সংকটে জনগণের পাশে থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন নির্মোহ, অনাড়ম্বর অত্যন্ত সাদাসিধে।

তার সাধারণ জীবনযাপন দেশ জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন। শোষণ বঞ্চনাহীন, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের জন্য মাওলানা ভাসানী আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তার আদর্শিক ঐক্য রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ছিল।