ভারত পুশ করবে না, এমন লিখিত আশ্বাস চায় বাংলাদেশ

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

ভারত থেকে জোরপূর্বক কাউকে বাংলাদেশে পুশ না করার ব্যাপারে মোদি সরকারের কাছ থেকে লিখিত নিশ্চয়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের ইংরেজি দৈনিক দ্য প্রিন্ট বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

পত্রিকায় ছাপানো প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের বিতর্কিত নাগরিকপঞ্জী নিয়ে শেখ হাসিনার সরকার ভারতের বিষয়ে ‘নরম’ আচরণ করছে বলে সমালোচনা আছে দেশে। আর এমন সময়ই বাংলাদেশ থেকে লিখিত নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আসামে নাগরিকপঞ্জী বাস্তবায়নের কয়েক মাস পর অক্টোবরে হাসিনা ব্যক্তিগত সফরে ভারত গেলে তখনও বাংলাদেশ সরকার থেকে এই ধরণের দাবি জানানো হয়।

তখন ভারত মৌখিক আশ্বাস দেয় যে, নাগরিকপঞ্জীতে যারা ‘বিদেশী’ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে, তাদেরকে বাংলাদেশে পাঠানো হবে না। তবে তখনও ভারত লিখিত নিশ্চয়তা দিতে রাজি হয়নি। তখন ভারতের যুক্তি ছিল, এই নাগরিকপঞ্জী করা হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী।

ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী সরকার গত ১১ ডিসেম্বর পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাসের পর দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। ২০১৪ সালে দেশটিতে ক্ষমতায় আসার পর এমন তীব্র বিক্ষোভ এবং বিরোধিতার মুখে প্রথমবারের মতো পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আইনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পার্সি এবং জৈন সম্প্রদায়ের সদস্যরা সে দেশের নাগরিকত্ব পাবেন। তবে এ আইনে মুসলিম শরণার্থীদের ব্যাপারে একই ধরনের বিধান রাখা হয়নি।

সমালোচকরা বলেছেন, ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ভারতে বিভাজন তৈরি করতে এ নতুন নাগরিকত্ব আইন তৈরি করেছে; যা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের মাঝে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে, আইনে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত মুসলিম অভিবাসীদের বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইন করতে পারে ভারত।

এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলেও নয়াদিল্লির কাছ থেকে দৃঢ় আশ্বাস না পাওয়ার ব্যর্থতায় দেশের ভেতরে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকার।

বাংলাদেশ সরকারের জন্য এই পরিস্থিতি খারাপ থেকে আরও খারাপের দিকে গেছে গত নভেম্বরে। ওই মাসে বেঙ্গালুরু থেকে ৬০ অবৈধ বাংলাদেশিকে আটকের পর ঢাকায় পাঠানোর জন্য কলকাতায় নেয়া হয়। এছাড়া গত পাঁচ বছরে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ মহারাষ্ট্র থেকে অন্তত ১ হাজার ৪৭১ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।