ভাগে কোরবানি পশু বিক্রি, বাসায় পৌঁছে দেয়া হবে মাংস!

রাঙ্গুনিয়ায় ভাগায় বিক্রির জন্য এএনবি এগ্রো খামারে রাখা পশুর একাংশ।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি:  যারা ভাগে পশু কোরবানি দেন তাদের দুশ্চিন্তার অন্ত থাকে না। কীভাবে কোরবানি দেবেন, কার সঙ্গে দেবেন, সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করে সেই আয়োজনে অংশীদার হওয়া বেশ কঠিন। এই কঠিন সমস্যার সমাধানে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে রাঙ্গুনিয়ায় এএনবি এগ্রো।

শরীয়ত সম্মত উপায়ে এবারের কোরবানে প্রতিটি গরুকে ৭টি ভাগে ভাগ করে ৭টি গরু দিয়ে ৪৯ জন ক্রেতার কাছে বিক্রি করছেন এএনবি এগ্রো।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, গত তিনবছর ধরে ক্রেতাদের কথা চিন্তা করে এই ব্যবস্থা করে আসছেন তিনি। এবার যারা ভাগায় পশু কিনেছেন তারা সবাই নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। ২৫০ কেজি লাইভ ওজনের একটি পশুর ভাগার দাম ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৩০০ টাকা করে। যেখানে প্রতি ভাগায় ১৯-২০ কেজি করে মাংস পাওয়া যাবে। আবার ১৪ হাজার টাকা দামের ভাগায় মাংস পাওয়া যাবে ১৭-১৯ কেজি, ২৫ হাজার টাকা দামের ভাগা মাংসে ৩১-৩৩ টাকা কেজি করে মাংস পাওয়া যাবে। একইভাবে সর্বনিম্ন ১২ হাজার ৭০০ টাকাও ভাগার মূল্যে পশু বিক্রি করা হয়েছে।

ভাগা কিনলে ক্রেতাদের জন্য পশু জবাই করে বাসায় পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শরীয়তসম্মত উপায়ে পশু জবাইয়ে হুজুর ও ভাগার মাংস নির্ধারণের জন্য প্রশিক্ষিত কসাই নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া নগরীর বহদ্দারহাট এলাকার একটি ক্লাবও ভাড়া নেয়া হয়েছে পশু জবাইয়ের জন্য।

তিনি বলেন, অর্ডার বেশি থাকলেও প্রতি বারের ন্যায় মাত্র ৭টি গরু ভাগা দামে বিক্রি করা হয়েছে। যাতে দুপুরের আগেই ক্রেতাদের বাসায় মাংস পৌঁছে দেওয়া যায়।

সফল খামারী নজরুল ইসলাম জানান, তিনি শুধু ভাগায় পশু বিক্রিই নয়, সারাবছর ধরেই সপ্তাহে দুই তিনটি পশু জবাই করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাংস পৌঁছে দিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, এবারের কোরবানি ঈদে খামার থেকেই ১১০টি গরু বিক্রি করেছেন তিনি। যেগুলোর সর্বনিম্ন দাম ১ লাখ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ১৮টি গরু গোচরা বাজারে বিক্রি করছেন। যেগুলোর সর্বনিম্ন ৩৭ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, হালিশহর, নিমতলা, বালুছড়া, চন্দনাইশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অনলাইনে গরু বুকিং দিয়ে এসব পশু কিনেছেন বলে তিনি জানান। যারা খামার থেকে পশু কিনেছেন তাদের পশুর সাথে দেশীয় ফল উপহার দিয়েছেন তিনি।

এদিকে ভাগায় পশু বিক্রির ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ক্রেতারা। এক ক্রেতা জানান, গ্রামে পাড়া প্রতিবেশীদের সাথে ভাগায় কোরবানি দেয়ার সুযোগ থাকলেও নগর জীবনে তা অসম্ভব। সেখানে এএনবি এগ্রোর ব্যতিক্রমী আয়োজনের কারণে এই দুঃশ্চিন্তা দূর হয়েছে।