ব্র্যাক ব্যাংক ছাড়লেন ফজলে হাসান আবেদ

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

ব্র্যাক ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন স্যার ফজলে হাসান আবেদ ব্যাংকটির পর্ষদের দায়িত্ব থেকে অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সোমবার ব্র্যাক ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ফজলে হাসান আবেদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মানসুর। তাকে ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে। এর আগে তিনি ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক ছিলেন। পরিচালনা পর্ষদের এই পরিবর্তন সোমবার থেকেই কার্যকর হবে।

আহসান এইচ মানসুর ২০১৭ সালে ব্র্যাক ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে পরিচালনা পর্ষদে যোগদান করেন। তিনি ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের লেকচারার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলে (আইএমএফ) দীর্ঘ কর্মজীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮১ সালে তিনি আইএমএফে যোগদান করেন। ১৯৮২ সালে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন ওন্টারিও থেকে অর্থনীতিতে (জেনারেল ইকুলিব্রিয়াম) পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

দীর্ঘ জীবনে তিনি আইএমএফের কর্মকর্তা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, আফ্রিকা ও সেন্ট্রাল আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে বিশ্বের সর্ববৃহৎ বৃহত্তম বেসরকারি অলাভজনক উন্নয়নমূলক সংস্থা (এনজিও) ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারপার্সন পদ থেকে অবসর নেন। তবে তিনি ‘অ্যামিরেটাস চেয়ারপারসন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে থাকবেন।

একই সঙ্গে গভর্নিং বোর্ডের আরও সাত সদস্যকে বদলি করা হয়। পরিবর্তন আনা হয় ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের পরিচালনা পর্ষদেও।

ফজলে হাসান আবেদের বিদায়ে ব্র্যাকের পরিচালনা পর্ষদে চেয়ারপারসনের পদে এসেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান।

১৯৭০ সালে ফজলে হাসান আবেদ বাংলাদেশের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত দুঃস্থ মানুষের সাহায্যে ত্রাণ কর্মকাণ্ডে জড়িত হন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি তিনি দেশে ফিরে আসেন।

১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্র্যাকের জন্ম। যুদ্ধের পর সিলেটের শাল্লায় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বসবাসরত লোকজনকে দেখতে যান। সেখানে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেন তিনি শাল্লায় কাজ করবেন। এভাবেই স্বাধীন বাংলাদেশের দরিদ্র, অসহায়, সব হারানো মানুষের ত্রাণ ও পুনর্বাসনকল্পে শুরু করেন ‘Bangladesh Rehabilitation Assistance Committee’ সংক্ষেপে যা ‘BRAC’ নামে পরিচিত।

১৯৭৩ সালে সাময়িক ত্রাণ কার্যক্রমের গণ্ডি পেরিয়ে ব্র্যাক যখন উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে কাজ শুরু করে, তখন ‘BRAC’-এই শব্দসংক্ষেপটির যে ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হয়, সেটি হল ‘Bangladesh Rural Advancement Committee’। বর্তমানে ব্যাখ্যামূলক কোনো শব্দসমষ্টির অপেক্ষা না রেখে এই সংস্থা শুধুই ‘BRAC’ নামে পরিচিত।