ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করলেন টিউলিপ সিদ্দিক

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

ব্রেক্সিট চুক্তির খসড়া বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সংসদ সদস্য টিউলিক সিদ্দিক।

অনেক চড়াই-উতরাই, বাঁধা, সমালোচনা ও অনিশ্চয়তা শেষে বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় নেতাদের এক বৈঠকের পন অবশেষে নির্ধারিত সময়ের ১৪ দিন আগে ব্রেক্সিট চুক্তির বিষয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছিয়েছে যুক্তরাজ্য।

বিষয়টি জানিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এক টুইটে লেখেন- ‘দারুণ এক সমঝোতায় আমরা পৌঁছেছি, পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণও ফিরেছে।’

আর সেখানেই আপত্তি তুলেছেন টিউলিপ সিদ্দিক৷ তিনি এ সময়কে চুক্তির মতো বড় বিষয়টির জন্য যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন।

বৃহস্পতিবার টুইটারে টিউলিপ সিদ্দিক লেখেন, ‘এটা চরম অসম্মানের ব্যাপার হতে যাচ্ছে। এ চুক্তি নিয়ে শনিবার ভোটাভুটির আগে আমাদেরকে মাত্র ৯০ মিনিট সময় দেয়া হবে। এটা হচ্ছে বর্তমান সরকারের তৈরি ক্ষতিকর ব্রেক্সিট চুক্তির ব্যাপারে বিতর্কে সুযোগ না দেয়ার সর্বশেষ উদাহরণ। আমাদের দেশের ভবিষ্যত সঙ্কটাপন্ন।’

টিউলিপ সিদ্দিকি ছাড়াও নতুন ব্রেক্সিট চুক্তির খসড়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন অনেকেই।

জনসনের এমন চুক্তির বিষয়ে বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতারা বলছেন, তেরেসা মে যে ব্রেক্সিট চুক্তি করেছিলেন, জনসনের নতুন প্রস্তাবিত চুক্তি তার চেয়েও অনেক খারাপ। এটি সংসদ সদস্যদের প্রত্যাখ্যান করা উচিত।

সংসদে নতুন ব্রেক্সিট চুক্তির পক্ষে তার ভোট দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন লেবার পার্টির প্রধান জেরেমি কর্বিন। একে বিশ্বাসঘাতকতামূলক চুক্তি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, ব্রিটেনকে ঐক্যবদ্ধ করবে না। ব্রেক্সিট সঙ্কট সমাধানের সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে জনগণের চূড়ান্ত মতামত জানতে গণভোটের আয়োজন করা।

বিবিসির রাজনীতিবিষয়ক প্রধান সংবাদদাতা ভিকি ইয়াং জানিয়েছেন, ‘বরিস জনসনের এ নতুন চুক্তি উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) সমর্থন করবে না। তারা এর পক্ষে ভোট দেবেন না।’

নতুন চুক্তির প্রস্তাবগুলো উত্তর আয়ারল্যান্ডের অর্থনৈতিক কল্যাণের জন্য সহায়ক নয় এবং এতে ইউনিয়নের অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন হবে এক বিবৃতিতে মত দিয়েছে নর্দার্ন আইরিশ পার্টি।

তবে নতুন ব্রেক্সিট চুক্তিকে সুষ্ঠু এবং ভারসাম্যপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদে জাঙ্কার। তিনি চুক্তিতে সমর্থন দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এক চিঠিতে জাঙ্কার বলেছেন, ‘ইইউর ২৭ সদস্য রাষ্ট্রকে চুক্তিতে অনুমোদন দেয়ার সুপারিশ করছি। ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার শেষ সময় এখনই।’

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের সুরে সুর মিলিয়ে বরিস জনসন বলেছেন, ‘আর কোনো দেরি না করে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করে ভবিষ্যতে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করে যাওয়ার সময় এখনই। যুক্তরাজ্য এবং ইইউ দুয়ের জন্য খুবই ইতিবাচক হবে বিষয়টি। ’

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস ব্রেক্সিট চুক্তির নতুন খসড়াকে এক কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। বার্লিনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ চুক্তি এটাই প্রমাণ করে যে আমরা সবাই দায়িত্বের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করেছি।’