ব্রেক্সিট চুক্তি: এমপিদের মন জিততে মরিয়া জনসন

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

দীর্ঘ টানাপড়েন আর অনিশ্চয়তার পর ব্রেক্সিট চুক্তির বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাজ্য।

বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় নেতাদের এক বৈঠকের আগে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছান।

প্রক্রিয়ামাফিক ৩১ অক্টোবরে ব্রেক্সিট শেষ করার পথ সুগম করতে শনিবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে জনসনের চুক্তিতে অনুমোদন নিয়ে ভোট আয়োজন করা হয়েছে।

বিবিসি জানায়, প্রধানমন্ত্রী জনসন তার চুক্তিতে এমপিদের সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে ‘বেশ আত্মবিশ্বাসী’।

যদিও গত জুলাইয়ে ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই ইইউর সঙ্গে বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রয়োজনে ‘চুক্তিহীন বেক্সিট’ করার কথাই জোর দিয়ে বলেছেন।

চুক্তিহীন বেক্সিট হলে তা উভয় পক্ষের জন্য ক্ষতিকর হবে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তাই জনসনের ওই পথে হাঁটা আটকাতে ব্রিটিশ এমপিরা নতুন একটি আইন পাস করেছে। এখন এমপিদের অনুমোদন আদায় ছাড়া জনসন ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করতে পারবেন না।

ইইউ নেতারাও আর ঝুলিয়ে না রেখে ব্রেক্সিট শেষ করতে চান।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদে জাঙ্কার এক চিঠিতে ইইউ এর ২৭ সদস্যরাষ্ট্রকে চুক্তিতে অনুমোদন দেওয়ার সুপারিশ করবেন বলে জানিয়েছেন।

কারণ তিনি মনে করেন, ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার শেষ সময় এখনই।

তবে বিবিসির ধারণা, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) নতুন ব্রেক্সিট চুক্তি সমর্থন করবে না।

ডিইউপির প্রভাশালী এমপিরা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সে চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক করেছেন।

কিন্তু জনসনের চুক্তির পক্ষে তারা ভোট দেবেন না বলেই মনে করেন বিবিসির রাজনীতি বিষয়ক প্রধান সংবাদদাতা ভিকি ইয়াং।

যার অর্থ চুক্তিতে অনুমোদন পেতে জনসনকে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হবে।

প্রত্যাশিতভাবেই জনসন ভোট না দেওয়া লেবার এমপি, তার দলের বেক্সিটের পক্ষে দৃঢ় সমর্থক এবং বিদ্রোহী বলে যাদের তিনি দল থেকে বহিষ্কার করেছেন তাদের সমর্থন পেতে বেশি চেষ্টা করবেন।

৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হলে পার্লামেন্টের অনুমোদন নিতে ভোট আয়োজনের সুযোগ একবারই পাবেন জনসন।

যদি শনিবার এমপিরা তার চুক্তি প্রত্যাহার করে তবে নতুন আইন অনুযায়ী তাকে অবশ্যই ইইউর কাছে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানোর অনুরোধ করতে হবে।

অথচ জনসন বার বার বলেছেন, তিনি সময় বাড়ানোর আবেদন করবেন না।