ব্যবসার খরচ কমিয়ে দেবে ই-টিডিএস সিস্টেম

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: কোম্পানির ব্যবসার খরচ কমিয়ে দেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্ভাবিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ই-টিডিএস সিস্টেম। কর অঞ্চল-৬-এর সহযোগিতায় এসএমএসি এইচআরএস লিমিটেডের আয়োজনে ই-টিডিএস সিস্টেম বিষয়ক ওয়েবিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।

মঙ্গলবার (৭ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ওয়েবিনারে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিমদ্দিন বলেন, এ ধরনের ডিজিটালাইজেশনের পদক্ষেপকে স্বাগত। তবে এনবিআরকে টিডিএস সিস্টেম থেকে আইটেমের সংখ্যা কমানোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি এ ধরনের ব্যবস্থা বাস্তবায়নের আগে ব্যবসার জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে এনবিআরকে আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সরকারি সংস্থাগুলো অনেক ইতিবাচক উদ্যোগ নিচ্ছে কিন্তু এগুলো ব্যবসায় ছড়িয়ে পড়ছে না। এনবিআরকে ডিজিটালাইজেশনের ওপরও জোর দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে এনবিআর সদস্য (করনীতি) প্রদ্যুৎ কুমার সরকার বলেন, অনলাইন ট্যাক্স পেমেন্টের বিধান ইতিমধ্যেই আইনের অংশ এবং ই-টিডিএস ব্যবহার বৈধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ এনবিআর কল সেন্টার স্থাপন করবে এবং সমন্বিত অনলাইন সিস্টেম তৈরির প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্যানেল আলোচনার সময়, নরডিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এনসিসিআই) সভাপতি তাহরিন আমান এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন এই সিস্টেম বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর ব্যবসা করার খরচ কমিয়ে দেবে।

ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) নির্বাহী পরিচালক নুরুল কবির
সমস্ত ব্যাংকে একটি চালান সিস্টেমের আওতায় আনার ওপর জোর দেন। তিনি একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে এসএমএসি এইচআরএস লিমিটেডের স্নেহাশিষ বড়ুয়া সেশনটি পরিচালনা করেন। প্রশ্নোত্তর অধিবেশনটি পরিচালনা করেন কর অঞ্চল-৬ এর কমিশনার জাহিদ হাসান। এক ঘণ্টার প্রশ্নোত্তর অধিবেশনে সিস্টেমের ওপর অনেক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে এসএমএসি এইচআরএস লিমিটেডের চেয়ারম্যান জেরীন এম হোসেইনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী
সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বয়ংক্রিয়ভাবে উৎসে কর কর্তন ও মামলা জট কমানোসহ কর ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে  ই-টিডিএস সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, আয়কর আইনে ৩৪টি ধারায় উৎসে কর কর্তন এবং ১৯টি ধারায় উৎসে কর সংগ্রহ করার বিধান রয়েছে । এই ৫৩ টি ধারার অধীনে উৎসে কর কর্তন ও সংগ্রহ ম্যানুয়ালি মনিটরিং করা সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য। উৎসে কর কর্তন করে প্রত্যেকটি উৎসে কর কর্তন কর্তৃপক্ষকে ২টি অর্ধবার্ষিক রিটার্ন এবং ২৪টি মাসিক বিবরণীসহ সর্বমোট ২৬টি রিপোর্ট দাখিল করতে হয়। এছাড়া নির্ধারিত হারে কর কর্তন, সঠিক কোডে ও যথা সময়ে উৎসে কর জমাদান উৎসে কর কর্তন কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

এ অটোমেশন ব্যবস্থা কার্যকরের পর আয়কর প্রশাসনের রাজস্বের প্রধান খাত উৎসে কর ব্যবস্থাপনায় আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদারকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ফলে রাজস্ব ফাঁকি কমবে এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে।

২০২০ সালের মে মাসে ই-টিডিএস সিস্টেমের কাজ শুরু হয়। গত ১ ডিসেম্বর ই-টিডিএস সিস্টেমের টেস্ট রান কার্যক্রম ও ই-টিডিএস ল্যাব উদ্বোধন হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বৃহৎ করদাতা ইউনিট ও কর অঞ্চল -১, ২ ও ৬ তে ই-টিডিএস সিস্টেম পাইলটিং করা হয় ।