বোয়ালখালীর করলডেঙ্গা পাহাড়ের চূড়ায় মেধস আশ্রম

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার করলডেঙ্গা পাহাড়ে মেধস মুনির আশ্রম।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপুজা। আর মেধষ মুনি আশ্রম থেকেই পুজার উৎপত্তি। এখানে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজারো ভক্তদের সমাগম।

বছরজুড়ে মনস্কামনা পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে পূণ্যার্থীরা ছুটে আসেন মেধস মুনি আশ্রমে ।

১১৩ বছর আগে বেদানন্দ স্বামীজি যোগবলে আবিস্কার করেন এ আশ্রম। এখানে রয়েছে চন্ডী মন্দির,শিব মন্দির,কালী মন্দির ও কামাক্ষ্যা মন্দিরসহ ১২ টি মন্দির।

মহালয়ার মাধ্যমে দেবী পক্ষের সূচনা হয় এ মন্দিরে।

৬৮ একক জায়গাজুড়ে এবং ৫০০ ফুট উচ্চতার উপর স্থাপিত এ মন্দির। মন্দিরের পিছনে রয়েছে প্রাকৃতিক ঝর্ণা। সাধু সন্ন্যাসী ও পূণ্যার্থীদের থাকার জন্য দ্বিতলা ভবন।

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, মেধসাশ্রম আবিষ্কার এক দৈব ঘটনা। স্বামী বেদানন্দ মহাত্মই ১৯০০ খৃষ্ঠাব্দ যোগবলে জ্ঞাত হয়েই এ পূণ্যতীর্থ উদ্ধার করেন। তাঁর সংস্কৃতে রচিত ‘মেধসাশ্রম মাহাত্ম্য’। (যার অনুবাদ করেছেন সুপন্ডিত দেবেন্দ্র বিজয় বসু)। স্বামী বেদানন্দ আবিস্কৃত এ পবিত্র স্থানেই কয়েক হাজার বছর পূর্বে মহাশক্তি জগম্মাতার আগমন ঘটেছিল। এ পবিত্র স্থানই মর্ত্যলোকে মঙ্গলময়ী মায়ের আবির্ভাবের আদিস্থান। এখানেই প্রথম মৃন্ময়ী দেবীর আরাধনা হয়েছিল। মায়ের মৃন্ময়ী মুর্তিতে প‚জা হয়েছিলো প্রথম এ বাংলায়-এ চট্টগ্রামে। এ কথা শ্রীচন্ডীতে সুষ্পষ্ট। ঋষি মেধস মাতৃদর্শন লাভের জন্য সুরথ-সমাধিকে এ পুণ্যক্ষেত্রেই পুজা করতে আদেশ দিয়েছিলেন।

মেধস মুনি রাজা সুরথ ও বৈশ্য সমাধিকে প্রথম দুর্গোৎসবের পাঠ দিয়েছিলেন। রাজা ও বৈশ্য নিজেদের দুরবস্থা থেকে মুক্ত হতে চট্টগ্রামের মেধসের এই আশ্রমে মাটি দিয়ে দুর্গা প্রতিমা নির্মাণ করেন এবং মর্তলোকে প্রথম দুর্গাপুজোর সূচনা করেন। সেই থেকে আজ অবধি, এখানে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে।

১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশে) মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকহানাদার বাহিনী এই আশ্রম ও আশ্রম সংলগ্ন মন্দির ধ্বংস করে দেয়। পরে স্থানীয় হিন্দুদের সহযোগিতায় এই মন্দির ও আশ্রম পুনঃনির্মাণ করা হয়।

বোয়ালখালী পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল বিশ্বাস বলেন, ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও এর দেশীয় দোসররা আশ্রমের মূল্যবান দেবীর প্রতিমা লুটে নিয়েছিল। এ সময় গান পাউডার দিয়ে আশ্রমটি জ্বালিয়ে দেয় ও কামানের গোলা বর্ষণ করে আশ্রমের অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছিল। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী কয়েক বছর বন্ধ ছিল এ মন্দিরে প‚জা অর্চনা। ১৯৮৯ সালে পাথরের মূর্তি পুনঃস্থাপন করা হয়। মেধস আশ্রমকে জাতীয় তীর্থস্থান ঘোষনা এবং আশ্রমকে ঘিরে পযর্টন কেন্দ্র গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

আশ্রমের অধ্যক্ষ বুলবুলনন্দ ব্রক্ষচারী বলেন,মহালয়া উপলক্ষে ভোরে চন্ডীপাঠ,শঙ্খের ধ্বনি ও ঢাকের বাদ্যে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আহবানের মধ্যে দিয়ে দুর্গাপুজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু। সড়ক যোগাযোগের করুণ অবস্থার জন্য আশ্রমে আসা পুণ্যার্থীদের দুর্ভোগ সইতে হচ্ছে। সরকার সেদিকে একটু নজর দিলে ইতিহাস সমৃদ্ধ মেধস আশ্রম বিশাল পর্যটন স্পটে পরিণত হবে। এব্যাপারে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করি।