বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল সন্দ্বীপের ২৩ মণ্ডপের দুর্গাপূজা

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সন্দ্বীপের ২৩ মণ্ডপের শারদীয়া দুর্গোৎসব। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বোধনের মধ্যে দিয়ে পূজার শুরু হয়ে মঙ্গলবার বিসর্জনের মাধ্যমে পূজোর সমাপ্তি ঘটে।
গতবছরের মত এবারো সন্দ্বীপের ২৩ টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। এক থেকে দেড় মাস আগে থেকে মণ্ডপ গুলোতে পূজার প্রস্তুতি শুরু হয়। প্রতিমার বৈচিত্র্যময় ভঙ্গিমা,সাজসজ্জা, বাহিরের ডেকোরেশন সব মিলিয়ে এক প্যান্ডেলের সাথে অন্য প্যান্ডেলের প্রতিযোগিতা ছিল চোখে পড়ার মত। বেশ কয়েকটি মণ্ডপে আগত সনাতনী ভক্তদের জন্য দুপুরের মহাপ্রসাদের আয়োজন ছিল। প্যান্ডেলে লোকজন জমায়েত ধরে রাখতে গান বাজনা,নাটকসহ বিভিন্ন আয়োজন ছিল।
মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নের ভগবান বনিকের বাড়ির পূজা মণ্ডপের সভাপতি সুমন বনিক জানান, মন্দিরে ভক্তদের জন্য দুইদিন মহাপ্রসাদের আয়োজন ছিল। গীতা স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গীতাপাঠ ও ধর্মীয় গানের আয়োজনের মাধ্যমে ভক্তদের বেশ সাড়া পেয়েছি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে পূজার শুরু হলেও পূজা জমে উঠেছে অষ্টমী পূজার দিন থেকে। বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পুরো সন্দ্বীপ ঘুরে পূজা মন্ডপগুলোতে প্রতিমা দর্শন করতে দেখা গেছে। অষ্টমী ও নবমী পূজার দিনে ধাম এলাকায় রাস্তায় নজিরবিহীন যানজট সৃষ্টি হয়। পূজাকে কেন্দ্র করে মন্দিরগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মত। প্রতিটি মন্দিরে গ্রাম পুলিশ, আনসার সদস্যরা স্থায়ী ভাবে দায়িত্ব পালন করছে। ঝুকিপূর্ণ মন্দিরগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশ সদস্য এবং প্রতিটি এলাকায় মোবাইল টিমকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
মঙ্গলবার সকাল দশটার পর থেকে বিকাল ৩ টার মধ্যে মন্দিরগুলোতে প্রতিমা বিসর্জ্জন শেষ হয়। মন্দিরের পাশ্ববর্তী পুকুরগুলোতে প্রতিমা বিসর্জ্জন দেওয়া হয়েছে।
সন্দ্বীপ থানার ওসি শেখ শরিফুল ইসলাম বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে পুরো সন্দ্বীপব্যাপী কঠোর নিরাপত্তার ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছিল। মন্দিরগুলোতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। প্রতিবছর সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতা মন্দিরগুলো পরিদর্শন করলেও এবার আমেরিকায় থাকায় তিনি উপস্থিত হতে পারেননি।
তবে তার প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রতিটি পূজা মণ্ডপে ৪৪ হাজার টাকা করে আর্থিক বরাদ্দ এবং ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে ১০ টি শাড়ী পৌঁছে দিয়েছেন।