বিএসএফের গুলিতে নিহত বাবার মুখ শেষ বারের মতো দেখা হলো না কন্যাদের

বিএসএফের গুলিতে নিহত বাবার মুখ শেষ বারের মতো দেখতে পেল না কন্যা সন্তানেরা।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

ফেনী জেলা প্রতিনিধি: ভারতীয় বিএসএফের হাতে নিহত মেজবাহ উদ্দিন (৪৭) এর লাশ বুধবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে নামাজের জানাযা শেষে উত্তর গুথুমা গ্রামে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ্ এ্যাম্বুলেন্স যোগে পৌর এলাকার উত্তর গুথুমা গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় স্ত্রী ও চার কন্যা সন্তানের কান্নায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। অবুঝ চার কন্যা সন্তানেরা তার বাবার মুখ দেখতে আহাজারিতে এক হৃদয় বিদারক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় কাউন্সিলর নিজাম উদ্দিন সুমন  জানান লাশ অনেকটা পচে গলে গেছে, মুখ থেতলে গেছে দেখার মতো কোন পরিস্থিতি নেই, তাছাড়া ময়না তদন্ত শেষে মাথায় হাড়গোড়  দেখা যাচ্ছে। এমতবস্থায় লাশ দেখানোর মতো কোন পরিস্থিতি নেই।

ফেনীর পরশুরামে ভারতীয় বিএসএফের হাতে নিহত মেজবাহ উদ্দিনের লাশ মঙ্গলবার দুপুরে  ১৬ দিন পর বাংলাদেশী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় পুলিশ। পুলিশ মেজবাহ উদ্দিনের মরদেহ গ্রহণ করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।

মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে বিলোনিয়া ইমিগ্রেশনে চেকপোস্টে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী বিলোনিয়া স্থল বন্দরের চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় পুলিশ বাংলাদেশী পুলিশের নিকট মেজবাহ উদ্দিনের মরদেহ হস্তান্তর করেন। এতে বিজিবি’র পক্ষে নেতৃত্ব দেন খেজুরিয়া কোম্পানি কমান্ডার জেসিও সুবেদার ওমর ফারুক ও পরশুরাম মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম এবং বিএসএফ এর পক্ষে নেতৃত্ব দেন ২০০ বিএসএফ ব্যাটাঃ এর সারসীমা কোম্পানি কমান্ডার এসি সত্যিয়া পাল সিং ও ভারতীয় বিলোনিয়া থানার ওসি পরিতোষ দাস।

এর আগে ১৩ নভেম্বর উপজেলার বাঁশপদুয়া গ্রামে সীমান্তবর্তী এলাকায় ধান কাটতে গেলে ভারতীয় বিএসএফ তাকে ধরে নিয়ে যায়। তিনদিন পর স্থানীয়রা মেজবাহ উদ্দিনের মরদেহ ভারতীয় সীমান্তে কাঁটাতারের একশ গজ ভিতরে পড়ে থাকতে দেখে বিজিবিকে খবর দিলে ১৬ নভেম্বর রাত তিনটায় বাংলাদেশি কৃষক মেজবাহ উদ্দিনের মরদেহ নিয়ে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

বুধবার দিবাগত রাত ৩টায় বিজিবি-বিএসএফের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে তাঁর মরদেহ নিয়ে যায় তারা।

নিহতের স্ত্রী ও স্থানীয়রা মরদেহ পরশুরাম উপজেলার উত্তর গুথুমা গ্রামের মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিনের (৪৭) বলে শনাক্ত করেন। তিনি পরশুরাম পৌর এলাকার উত্তর গুথুমা গ্রামের মৃত মফিজুর রহমানের ছেলে এবং পেশায় কৃষক।

স্থানীয় কাউন্সিলর নিজাম উদ্দিন সুমন জানান গত ১৩ নভেম্বর রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন বাঁশপদুয়া গ্রামের ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ধান কাটতে যান। এ সময় বিএসএফের সদস্যরা তাঁকে জোর করে ধরে নিয়ে যান। মেজবারের লাশ সনাক্তের কোন সুযোগ নেই লাশ পচে গলে গেছে।

ভারতের বিলোনিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক পরিতোষ দাস জানান নিহত মেজবাহ উদ্দিনের শরীরে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এখনো তাদের হাতে আসেনি। অফিসিয়াল ভাবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ফেলে বাংলাদেশের পুলিশকে দেওয়া হবে।

পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেজবাহ উদ্দিন এর মরদেহ ফেরত দেয়ায় পর ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকেলে মেজবাহ উদ্দিনের মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

তার জানাযায় উপস্থিত ছিলেন পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো সাইফুল ইসলাম, পরশুরাম পৌরসভার কাউন্সিলর রাসুল মজুমদার স্বপন, নিজাম উদ্দিন সুমন, উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান মো ইয়াছিন শরীফ মজুমদার। মডেল থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মনির আহাম্মদ স্থানীয় গ্রামবাসী ও আত্বীয় স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।