বালুতে ভরাট হচ্ছে হালদা নদী

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র বঙ্গবন্ধু মৎস্য হ্যারিটেজ হালদা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় প্রতিনিয়ত নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

হাটহাজারী প্রতিনিধি: দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র বঙ্গবন্ধু মৎস্য হ্যারিটেজ হালদা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় প্রতিনিয়ত নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে হ্রাস পাচ্ছে নদীর নাব্যতা। নষ্ট হচ্ছে কার্প জাতীয় মাছের ডিম দেয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ। অতি বৃষ্টি কিংবা ভরা জোয়ারে লোকালয়ে প্রবেশ করছে পানি। ড্রেজার নয় ডুবুরি দিয়ে নৌকার মাধ্যমে বালু উত্তোলন করলে নদীর পরিবেশ যেমন ঠিক থাকবে তেমনি ফিরে আসবে নদীর নাব্যতা। মা মাছ ফিরে পাবে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ। ফলে ডিম ছাড়ার মৌসুমে বৃদ্ধি পাবে মা মাছের পরিপক্ক ডিম।

একইসাথে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে হালদা পাড়ের বাসিন্দারা। সরেজমিনে জানা গেছে, গত ২০/২৫ বছর আগেও নদীর যেসব স্থানে একশ ৮০ থেকে দুইশ ২০ ফুট গভীরতা ছিল বালু উত্তোলন বন্ধের কারনে সেটা বর্তমানে ৬০ থেকে ৯০ ফুট গভীরতায় নেমেছে। মা মাছের ডিম ছাড়ার দুই কুমের (ঘূর্ণিয়মান গর্ত) মাঝে বালু ভরাট হয়ে চর জমে উঠছে। যার ফলে মৌসুমে পানির স্রোত না থাকায় মা মাছ ডিম ছাড়ার পর পুরুষ মাছ তার বীর্য দিলেও কুমের পানি পর্যাপ্ত ঘূর্ণিয়মান না হওয়ায় ডিম  অপরিপক্কতা হচ্ছে। একইসাথে ভরাট হচ্ছে সেই কুম। ফলে মা মাছ পর্যাপ্ত থাকলেও পরিবেশ না পাওয়ায় পুরোদমে ডিম ছাড়ছেনা।

অপরদিকে হালদার গভীরতা হ্রাস পাওয়ায় অতিবৃষ্টি, জোয়ারে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় দুর্ভোগে পড়ছে স্থানীয়রা। নদীর পাড় সংলগ্ন জমিতে ক্ষেত খামার প্রায় বন্ধ হয়েছে বিশেষ করে খ্যাত হাটহাজারীর মরিচ। ইতিমধ্যে এক সময়ে ডিম আহরণ করার প্রসিদ্ধ স্থান কেরাংতল বাঁক, নয়াহাট কুম, অঙ্কুরিঘোনা, বোবার চর, ছায়ারচর বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে নাপিতের ঘাট থেকে রহমত ঘোনা, মাছুয়াঘোনা থেকে পোড়া আওলিয়া প্রকাশ পোড়ালিখাল, আমতুয়া থেকে কুমারিখাল, কাটাখালি থেকে কাগতিয়া স্লুইসগেট পর্যন্ত যে সব কুম বিদ্যমান যদি বালু তোলার ব্যবস্থা নেয়া না হয় তাহলে আস্তে আস্তে এসব কুমও বিলুপ্ত হবে ফলে মা মাছের অভয়াশ্রম কার্প জাতীয় মাছের অন্যতম মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হবে। জাতীয় নদী ঘোষণার লক্ষ্য নিয়ে সরকার যেসব কাজ করছে তা ভেস্তে যাবে। তাই হালদা পাড়ের সকল পেশাজীবীর দাবি হালদা রক্ষা করতে হলে অনতিবিলম্বে হালদা থেকে ম্যানুয়ালি (ডুবুরির মাধ্যমে) বালু উত্তোলনের ব্যবস্থা নিতে হবে। ডিম আহরণকারী কামাল সওদাগর, মো. শফি, হালদা গবেষক ড. শফিকুল ইসলাম, গড়দুয়ারা ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার মোর্শেদ তালুকদার, জেলা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা যথাক্রমে ফারহানা লাভলি ও নাজমুল হুদা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহিদুল আলম ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস. এম রাশেদুল আলম ম্যানুয়ালি বালু উত্তোলনে একমত পোষণ করেছেন।

এতে হালদার মা মাছ, ডলফিন ও জীব বৈচিত্র রক্ষা পাবে। কর্মসংস্থান হবে বেকারদের সাথে সরকারি কোষাগারে জমা পড়বে অর্থ।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন এ প্রত্যাশাই সকলের।