‘বাংলাদেশের শতকরা ৪% মানুষ হেপাটাইটিসে আক্রান্ত’

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ২০২১ উপলক্ষে এভারকেয়ার হসপিটালের অনলাইন প্যানেল আলোচনার আয়োজন

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ২০২১ উপলক্ষে সম্প্রতি এভারকেয়ার হসপিটাল একটি অনলাইন প্যানেল আলোচনার আয়োজন করেছে। এই বছরের থিম “আর অপেক্ষা নয়, হেপাটাইটিস প্রতিরোধের এখনই সময়” এর আওতায়, এভারকেয়ার হসপিটাল জনগণের মাঝে হেপাটাইটিস নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য একটি ভার্চ্যুয়াল ইভেন্ট এর আয়োজন করে।

বুধবার (২৮ জুলাই) এ ভার্চ্যুয়াল সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন-এর মেয়র মো: আতিকুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-এর মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী অনলাইন প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন-এর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রি.জে. মো: জোবায়দুর রহমান; এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসাল্টেন্ট এবং কো অর্ডিনেটর ডা. মোহাম্মদ লুতফুল লতিফ চৌধুরী; শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইন্সটিটিউট এবং হাসপাতাল-এর ডিরেক্টর অধ্যাপক ফারুক আহমেদ; এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকা’র গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের কনসাল্টেন্ট ডা. এস এম আলী হায়দার এবং সিএমসিএইচ-এর গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এরশাদ উদ্দিন আহমেদ ইভেন্টটিতে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে চ্যানেল ২৪-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তালাত মামুন; ডিবিসি নিউজ-এর এডিটর প্রণব সাহা; একাত্তর টিভি’র হেড অব নিউজ শাকিল আহমেদ অংশগ্রহণ করেন। ভার্চ্যুয়াল ইভেন্টটি সঞ্চালনা করেন এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার মেডিকেল সার্ভিস-এর ডেপুটি ডিরেক্টর ডা. আরিফ মাহমুদ।

এসময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন-এর মেয়র মো: আতিকুল ইসলাম বলেন, “চট্টগ্রামের মাননীয় মেয়র মহোদয়, সকল চিকিৎসক এবং গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এবং এভারকেয়ার হসপিটাল-কে ধন্যবাদ এমন একটি ইভেন্ট আয়োজন করার জন্য। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের স্বাস্থ্যখাত দিন দিন উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জনগণের মধ্যে সচেতনতার হার বৃদ্ধি না করা গেলে হেপাটাইটিস-এর মতো রোগ নির্মূল করা কঠিন হয়ে পড়বে। বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস-এ আক্রান্ত, প্রায় ২০ হাজার রোগী এই রোগে মৃত্যুবরণ করছে এবং আক্রান্ত ১০ জন রোগীর ৯ জনই জানেননা যে তারা এই রোগে আক্রান্ত। এই পরিস্থিতিতে, নগর পিতা নয়, নগর সেবক হিসেবে আমি বলতে চাই “হেপাটাইটিস নিয়ে অপেক্ষা নয়”। তাই জনমনে রোগের কারণ, করনীয় এবং প্রতিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির এখনই সময়। তিনি আরও বলেন, “রাস্তার বিলবোর্ড থেকে শুরু করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আমরা জনগণের কাছে পৌঁছাবো, তাদের সচেতন করে তুলতে চেষ্টা করবো এবং আমি আশা করবো সর্বস্তরের মানুষ আমার পাশে থাকবেন এবং একযোগে কাজ করবেন।”

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-এর মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী অনলাইন ইভেন্ট আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, হেপাটাইটিস নিয়ে যে জনগণের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে, তা স্পষ্ট। আমাদের দেশে এখন এমন মানুষ আছে যারা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। তাই জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা যারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছি, আমাদের কাজ হবে যার যার অবস্থান থেকে গণসচেতনতা সৃষ্টি করে হেপাটাইটিস নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। অন্যথায় এই আলোচনা শুধু আলোচনাই থেকে যাবে। আমি আশা করবো দেশের সকলে সম্মিলিতভাবে এই ভাইরাস দমনে কাজ করবে।”

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন-এর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রি.জে. মো: জোবায়দুর রহমান বলেন, নগরস্বাস্থ্য ঠিক রাখতে আমরা সর্বদা সচেষ্ট। সর্বস্তরের মানুষকে সেবা দিতে এবং সচেতনতা গড়ে তুলতে আমরা নিয়োজিত আছি।

এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা’র গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসাল্টেন্ট এবং কো অর্ডিনেটর ডা. মোহাম্মদ লুতফুল লতিফ চৌধুরী বলেন, “হেপাটাইটিস এমন একটি রোগ যা অদৃশ্য শত্রুর ন্যয়। যেহেতু আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষ জানেই না যে তারা এই রোগে আক্রান্ত, তাই এর ভয়াবহতা আরও বেশি। সুতরাং, গোষ্ঠীগত, সমাজগত, সরকারি-বেসকারি ও স্বেচ্ছাসেবক সংস্থা সকলেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে পদক্ষেপ নিতে হবে।”

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম-এর গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের কনসাল্টেন্ট ডা. এস এম আলী হায়দার বলেন, “বাংলাদেশের শতকরা ৪% মানুষ হেপাটাইটিসে আক্রান্ত। চলমান করোনা মহামারীতেও হেপাটাইটিসের সংক্রমণ বন্ধ নেই। তাই করোনা সতর্কতা এবং প্রতিরোধ্মূলক কার্যক্রম চলাকালেই হেপাটাইটিস নির্মূলের বিষয়ে জোর দিতে হবে। জনমনে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সঠিক পরীক্ষা, আক্রান্ত হলে চিকিৎসা এবং আক্রান্ত না হলে প্রতিষেধক নেওয়ারও কোন বিকল্প নেই।”

শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইন্সটিটিউট এবং হাসপাতাল-এর ডিরেক্টর অধ্যাপক ফারুক আহমেদ বলেন, “আজকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে মতামত প্রকাশ করতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। বিশ্বের সব দেশেই হেপাটাইটিস-এর উপস্থিতি রয়েছে। এই ভাইরাস যেমন ভয়াবহ রূপ ধারণে সক্ষম, তেমনি এর প্রতিকার ও কঠিন নয়। দেশের প্রতিটি মানুষকে টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা এবং বিশেষ করে নবজাতক শিশুদের টিকার আওতায় আনলে ভবিষ্যতে হেপাটাইটিস-এর সংক্রমণ হ্রাস পাবে বলে আমি মনে করি।”

সিএমসিএইচ-এর গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এরশাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৫০ মিলিয়ন মানুষ হেপাটাইটিস রোগে আক্রান্ত। যেহেতু এটি একটি লুকায়িত ভাইরাস তাই সচেতনতার মাত্রা বেশি থাকা প্রয়োজন। সঠিকভাবে পরীক্ষা এবং টিকাদানের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জোর দিতে হবে। হেপাটাইটিসের প্রতিষেধকের মূল্যও সাশ্রয়ী তাই জনগণকে এর বিষয়ে অবগত করা এবং করনীয় সম্পর্কে সচেতন করা তোলার এখনই সময়। হেপাটাইটিস নির্মূলে আর অপেক্ষা নয়।