বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান কংগ্রেস সদস্যের

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য (কংগ্রেসম্যান) জেমি রাসকিন। তিনি এ দেশের জনগণ, বিশেষ করে সাহসী ও ঝুঁকিতে থাকা নাগরিকদের পাশে দাঁড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মানবাধিকার রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তায় জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

৭ জুন ওয়াশিংটনে মার্কিন কংগ্রেসের অধিবেশনে ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্য রাসকিন এ আহ্বান জানান। কংগ্রেসের ওয়েবসাইটে তার এ ভাষণ তুলে ধরা হয়েছে। মেরিল্যান্ড থেকে নির্বাচিত রাসকিন টম ল্যান্টোস মানবাধিকার কমিশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য।

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এ দেশে গুমের ঘটনা মুক্তচিন্তা, বিরোধী রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের গা হিম করা অনুভূতি ছড়িয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমি সংহতি প্রকাশ করছি। সে দেশের সরকার অব্যাহতভাবে জনগণের মৌলিক মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রতি হুমকি সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় আমি বাংলাদেশের মানবাধিকারকর্মী, সংখ্যালঘু সম্প্র্রদায় ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করছি। অবনতিশীল মানবাধিকার এবং নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী, নারী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, মানবাধিকারকর্মী ও শরণার্থীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, র‌্যাব আইনের শাসন, মানবাধিকার ও মৌলিক নাগরিক অধিকারকে অবমূল্যায়ন করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে। তারা বলছে, করোনা মহামারিকালে সে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়েছে। গণমাধ্যমকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীরা সরকারের দুর্নীতি ও কোনো নীতির সমালোচনা করলে কঠোর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে তাঁদের ওপর নিয়মিতভাবে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে।

গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাে র প্রসঙ্গটি তুলে রাসকিন বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ৬ শতাধিক মানুষকে গুম এবং ২০১৮ সাল থেকে ৬০০ জনের কাছাকাছি মানুষকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার জন্য র‌্যাব ও বাংলাদেশের অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়ী বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এসব গুম-খুনের টার্গেট ছিলেন বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা।