বাঁশখালীর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে দালালের দৌরাত্ম্য চরমে

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বাঁশখালী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে দালালের দৌরাত্ম্য।

পল্লী বিদ্যুতের মিটার যেন সোনার হরিণ। বছরের পর বছর অপেক্ষা করে পাচ্ছে না বিদ্যুতের মিটার। বাঁশখালী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে পর্যাপ্ত পরিমাণ মিটার মজুদ থাকা সত্ত্বেও দালালের জিম্মায় রয়েছে সেই মিটার গুলো। হাজার হাজার টাকা খরচ করার পরেও মিলছে না মিটার, আলোর দেখা পাচ্ছে না বাঁশখালীর বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা। আধুনিক যুগেও রাতে স্কুল ছাত্র-ছাত্রীরা ব্যবহার করছে সেই আদি যুগের চ্যারাগ কিংবা মোববাতি কিছু কিছু পরিবার ব্যাবহার করছে সৌর বিদ্যুৎ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বাঁশখালীর পুইছড়ি, নাপোড়া, শেখেরখীল চাম্বল, জলদী, সরল, শীলকুপ, বাহারছড়া সহ প্রায় সকল ইউনিয়নের মিটার গুলো রয়েছে বাঁশখালীর কিছু চিহ্নিত দালালের হাতে। যাদের কে নিয়োগ দেয়া হয়েছে পল্লী বিদুতের   ইলেকট্রিশিয়ান হিসাবে তারাই মূলত এই দালালী গুলো করে যাচ্ছে।

গ্রাহকের কাছ থেকে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা অথচ তাদের কাজ হচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ এর মিটার সামগ্রী ফিটিংস করা। কিছু কিছু দালাল কে তাদের ইলেকট্রিশিয়ান সার্টিফিকেট বাতিল করা হলেও বহাল তবিয়তে করে যাচ্ছেন দালালি।

বাঁশখালী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের এজিএম মোজাম্মেল হোসেনকে প্রতিটি মিটারে টাকা দিতে হয় নাইলে ঠিক সময়ে মিটার পায় না ও ফাইলে স্বাক্ষর করে না।

বাঁশখালী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ইলেকট্রিশিয়ান এর তালিকায় থাকা মোঃ কামাল হোসেনে, ফিরোজ শাহী, ইদ্রিস, এদের কাজ হচ্ছে লট, বোড়,কিংবা ওয়ারিং করা। কিন্তুু তাদের রয়েছে তিন-চারটা কর্মচারী। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কে টাকা দিয়ে মিটার গুলো নিয়ে আসে তাদের জিম্মায়। তারপর গ্রাহকদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করে মিটার সরবরাহ করে থাকে।

পল্লী বিদ্যুতের অফিস সূত্রে জানা যায় যাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে পল্লী বিদ্যুতের ইলেকট্রিশিয়ান এর কাজ করার জন্য তারা এই দায়িত্বের কোনো তোয়াক্কা না করেই প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে মিটার বাণিজ্য। এমনকি একটা ইলেকট্রিশিয়ান এর দুই থেকে চার জন কর্মচারীও রয়েছে মিটার এর কাজ গুলো পরিচালনা করার জন্য। যদিও তাদের কাজ হচ্ছে পল্লী বিদ্যুতের ওয়ারিং লট আর বোট ফিটিংস। আবার যাদের কোন ইলেকট্রিশিয়ান সার্টিফিকেট নাই একই পরিবারের দুই থেকে তিনজন অনৈতিকভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মিটার দিবে বলে এবং প্রতারনা করছে।

বাঁশখালী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে কয়েকজন ভুক্তভোগির সাথে কথা বললে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায় আমি মিটারের জন্য আবেদন করেছি আজ থেকে চার বছর হয়ে গেছে ।নাম বলতে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধির কাছে তিন হাজার টাকা দিয়েছি কিন্তু সে দিয়েছে আরেক বড় মাপের দালালের কাছে টাকা গুলো।

শেষে অফিসে আসতে বললে অফিসে এসে তার সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি কোনো অবস্থাতে যোগাযোগ করছে না। মোবাইলে কল দিলেও পাওয়া যাচ্ছে না তাদের। সাংবাদিকের উপস্থিতি দেখে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে পালিয়ে যায়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ এই শ্লোগান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাঁশখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল এক এর ডিজিএম নাঈমুল হাসান জানান, আমরা চলতি মাসের মধ্যেই শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত করব এবং মিটার নিয়ে যে সমস্যা গুলো হচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যে সমাধান করার জন্য চেষ্টা করব। আমরা মাইকিং করেছি প্রত্যেক গ্রাহককে নিজ নিজ দায়িত্বে অফিসে এসে আবেদন করার জন্য তাদের মিটার নিতে কিন্তুু তারা এটা না করে বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করে যাচ্ছে। এর জন্য আমরা দায়ী না।