বন্যায় পাকিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ পানির নিচে

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: ভয়াবহ বন্যায় তলিয়ে গেছে পাকিস্তানের এক তৃতীয়াংশ অঞ্চল। দেশটির প্রতি সাত জনে একজন বন্যা কবলিত। এবারের বন্যা পরিস্থিতিকে অকল্পনীয় সংকট বলে বর্ণনা করেছেন পাকিস্তানের জলবায়ু মন্ত্রী শেরি রেহমান। জুন থেকে শুরু হওয়া এ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১শ ৩৬ জনে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ।

শেরি রেহমান বলেন, ছোট এক সমুদ্রে পরিণত হয়েছে দেশ। পানি বের করার জন্য নেই শুষ্ক জায়গা। বন্যায় তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশাল ফসলি জমি।

বন্যায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই শিশু বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি।

পাকিস্তানে বন্যায় ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও। গত দুই মাসে অতিবৃষ্টি ও বন্যায় অন্তত তিনটি প্রদেশে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে স্বল্পমেয়াদে খাদ্য সংকটের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ক্ষতিতেও পাকিস্তান পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হয়েছে পাকিস্তানের কৃষি খাতও। ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছে কৃষকেরা। দেশটির মূল খাদ্যভাণ্ডার হিসাবে পরিচিত সিন্ধু, পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তানের বেশিরভাগ ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া বন্যায় মারা গেছে বহু গবাদিপশু।

সিন্ধু প্রদেশের খাইরপুর জেলা খেজুর উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানের বহু খেজুর গাছ। পাকিস্তানের ৩০ শতাংশ তুলা উৎপাদনকারী সিন্ধু প্রদেশের বেশিরভাগ তুলা ক্ষেতও পানিতে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয়দের বর্ণনায়, আমাদের ঘর পানিতে ভেসে গেছে, কিন্তু তা আবার তৈরি করা যাবে। যে জমি চাষ করে খাবার জুটত, বন্যায় তলিয়ে যাওয়ায় সেই খাবারের উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের সব শস্য পানিতে তলিয়ে গেছে।

বন্যার পানি প্রবেশ করায় অনেক সরকারি গুদামের মজুত করা খাদ্যও নষ্ট হয়েছে। এতে আগামী মৌসুমে কৃষি বীজ আমদানি করা লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বন্যায় পাকিস্তান খাদ্য ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাকিস্তানের কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ ইমতিয়াজ আলি শাহ বলেন, পাকিস্তান কৃষিপ্রধান দেশ। সিন্ধু, পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তান কৃষির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ। বন্যায় তিনটি প্রদেশই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের কাছে আগামী মৌসুমের জন্য পর্যাপ্ত ফসলের বীজ নেই। খাদ্যের মজুতও কম। এতে সরকারকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

পাকিস্তানে জুলাই মাস থেকে বর্ষা শুরু হলেও, এ বছর তা শুরু হয় জুনে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এমন অস্বাভাবিক বন্যা। গত দুই মাসের বন্যায় পাকিস্তানে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।