বঙ্গোপসাগর আবারও অশান্ত, ইলিশ আহরণ বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: দুর্যোগ যেন কোনোভাবেই পিছু ছাড়ছে না জেলেদের। এক দুর্যোগ কাটিয়ে সাগরে যেতে না যেতেই আবারও বিপর্যয়ের মুখে পড়ে সকল ফিশিং ট্রলার কূলে ফিরেছে। শনিবার বিকেল থেকে আবহাওয়া পুনরায় খারাপ হওয়ায় শরণখোলাসহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার ট্রলার সুন্দরবনের ছোট নদী-খাল ও উপকূলের বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

দুবলা জেলেপল্লী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মৎস্যজীবি সংগঠনের নেতারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ায় লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে ট্রলার মালিক ও মহাজনদের। প্রতিটি ট্রলারে নতুন করে আবার দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার বিনিয়োগ করতে হয়েছে বলে জানান মহাজনরা। কিন্তু জাল ফেলতে না ফেলতেই প্রবল ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে আবারও সাগর ফুঁসে ওঠে।

শরণখোলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, একের পর এক দুর্যোগ আমাদের নিঃস্ব করে দিয়েছে। ট্রলার মালিক-মহাজন ও আড়ৎদাররা দেনা আর লোকসানে পড়ে অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে অনেকের। এ অবস্থায় আমাদের এবার মরণ ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

আবুল হোসেন আরো বলেন, ইলিশ আহরণে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর চতুর্থ ট্রিপ চলছে। এর মধ্যে প্রথম ট্রিপে সাগর স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু বাকি তিন ট্রিপই দুর্যোগে ইলিশ আহরণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ জেলে শ্রমিক পরিবারেও হাহাকার চলছে। সরকার আমাদের সহযোগিতা না করলে আগামীতে ইলিশের ব্যবসা করা কোনোভাবে সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশ ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সহ সভাপতি এম সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, ঝড়ের কবলে পড়ে বর্তমানে সাগর থেকে সব ট্রলার উঠে এসেছে। কয়েক হাজার ফিশিং ট্রলার সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চর, ছোট ভেদাখালী, বড় ভেদাখালী, অফিস কিল্লা, মাইটের খাল, কচিখালী এবং কলাপাড়ার নিদ্র ছখিনা ও মহিপুর এলাকায় অবস্থান করছে।

পূর্ব সুন্দরবনে শরণখোলা রেঞ্জের বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত দুবলা জেলেপল্লী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলিপ কুমার মজুমদার মুঠোফোনে বলেন, ঝড়ো বাতাসে সাগরে প্রচণ্ড ঢেউ হচ্ছে। দুপুর (রোববার) পর্যন্ত আমাদের অফিসের আশপাশের বিভিন্ন খালে কয়েকশ ট্রলার আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া বনের আরো অন্যান্য এলাকায় খালেও শত শত ট্রলার রয়েছে। আশ্রয় নেওয়া এসব ট্রলার ও জেলেদের যতটা সম্ভব খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।