বঙ্গমাতার নামে উদ্যান দাবি , সিআরবিতে হাসপাতাল: আন্দোলনের ইতি

ছবি : সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক : চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল হচ্ছে না- এমন ‘খবর পেয়ে’ শনিবার সাত রাস্তার মোড়ে দীর্ঘ দেড় বছরের আন্দোলনের সমাপনী সমাবেশ আয়োজন করে নাগরিক সমাজ চট্টগ্রাম।

সিআরবিতে হাসপাতাল হচ্ছে না- সরকারের কাছ থেকে এমন ‘আশ্বাস মিলেছে’ দাবি করে সেখানে বঙ্গমাতার নামে উদ্যান করার দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

‘চট্টগ্রামের ফুসফুসখ্যাত সিআরবি রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি চট্টগ্রামবাসীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ’ করতে শনিবার মহাসমাবেশ আয়োজন করে নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রাম।

সিআরবিতে ইউনাইটেড গ্রুপের হাসপাতাল প্রকল্প বাতিলের দাবিতে ৪৮৩ দিন ধরে চলা আন্দোলনের সমাপনী হিসেবে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, “সংসদ সদস্য হিসেবে একটা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। চট্টগ্রামের যত সংসদ সদস্য আমরা একটা দরখাস্ত লিখলাম- রেলমন্ত্রীর উদ্দেশে। সকল এমপি- মন্ত্রী সিআরবিতে হাসপাতাল না করার সে দরখাস্তে স্বাক্ষর করেছেন।

“সে দরখাস্ত নিয়ে আমরা রেলমন্ত্রীর কাছে গেলাম। সঙ্গে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং নওফেলও ছিল। সেটা আমরা হস্তান্তর করি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী জনগণের নেত্রী। মানুষের যে দাবি এখানে হাসপাতাল না করার জন্য, যখন সকল মন্ত্রী এমপি একমত। প্রধানমন্ত্রীও একমত হবেন। রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন কথা দিয়েছেন এখানে হাসপাতাল হবে না।”

বর্ষীয়ান আওয়ামী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ বলেন, “আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রীও একমত হবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পলোগ্রাউন্ড থেকে জনসভা শুরু করবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাইব। তখন তিনি নিজে ঘোষণা দিবেন, সিআরবিতে হাসপাতাল হবে না।

“আমরা সিআরবিতে বঙ্গমাতার নামে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করব। চট্টগ্রামের একটা লোক বেঁচে থাকতে এখানে হাসপাতাল হবে না। চেষ্টা করব ৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে এটা শোনার জন্য।”

সমাবেশে ফোনে যুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, “সিআরবিকে রক্ষা করার জন্য যারা আন্দোলন করেছেন, তারা সবাই আজ আছেন। আমরা রেলমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেছিলাম। রেলমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সাথে এ বিষয়ে কথা বলেছিলেন।

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়গুলো অবহিত করার পর তিনি বলেছেন, পরিবেশ প্রকৃতি নষ্ট করে কিছু হবে না। কেউ কেউ ভুলবশত পরিবেশের ক্ষতিকারক প্রকল্প নিয়ে ফেলে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় পরিবেশ প্রকৃতির প্রতি আন্তরিক।”

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, “চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রেলওয়ের পুনর্বিবেচনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের অংশ হিসেবে তারা জনগণের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার জনগণের সরকার। গায়ের জোরে রেলওয়ে কিছু করেননি, তাই ধন্যবাদ।”

সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের আহ্বায়ক অনুপম সেন বলেন, “যখন জানতে পারলাম এখানে পিপিপিতে হাসপাতাল হচ্ছে তখন সবাই মিলে সভা করে সিদ্ধান্ত নিলাম প্রয়োজনে আমৃত্যু আন্দোলন করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্ব পরিবেশ বিষয়ক শ্রেষ্ঠ নেতা হিসেবে বিবেচনা করে।

“প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোজাসুজি আবেদন প্রেরণ করলাম। সেদিনই আমি নিশ্চিত হয়েছিলাম যে এখানে আর কোনোদিন হাসপাতাল হবে না। যিনি বিশ্বজুড়ে পরিবেশের জন্য আন্দোলন করছেন, তিনি এ পরিবেশ নষ্ট হতে দিবেন না। তার নির্দেশেই সংসদীয় কমিটি হাসপাতালের জন্য অন্যত্র জায়গা খুঁজছে। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

তিনি বলেন, “সিআরবিতে বঙ্গমাতার নামে উদ্যান করা হোক। আজ এখান থেকে সিআরবিকে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব উদ্যান ঘোষণা করছি। আমরা জয়ী হয়েছি। জয়ী থাকব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে।”

সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “আপনাদের আন্দোলনের ফসল হিসেবে এখান থেকে হাসপাতাল সরে গেছে, হাসপাতাল হবে না। মেয়র হিসেবে প্রস্তাব- সিআরবির মালিকানা রেলের থাক। সিটি করপোরেশনেক দায়িত্ব দেওয়া হলে আমাদের অর্থায়নে এখানে বঙ্গমাতার নামে জাতীয় উদ্যান নান্দনিকভাবে করে দেব।”

নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল ও সাংবাদিক ঋত্তিক নয়নের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, নগর আওয়ামী লীগ সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, নগর মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইদ্রিস আলী।

বক্তব্য রাখেন জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন চৌধুরী বাবুল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এএইচ এম জিয়া উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ ও নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি।