বগুড়ার শাজাহানপুরের লোকালয়ে শিয়ালের অত্যাচার : আহত ২৪

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় শিয়ালের কামড়ে অন্তত ২৪ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। উপজেলার বেতগাড়ি গ্রামে বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে।

শিয়ালের কামড়ে আহত ব্যক্তিরা বগুড়া ২০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে জলাতঙ্কের চিকিৎসা নিয়েছেন।

শিয়ালের এই উৎপাতে বেতগাড়ি গ্রামে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে গ্রাম পাহারায় নেমেছেন। শিয়ালের ভয়ে স্কুলে যাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা।

বেতগাড়ি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই প্রায় অর্ধশত শিয়াল গ্রামবাসীর ওপর আক্রমণ করে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে শিয়ালগুলো এই আক্রমণ চালায়। বুধবার সন্ধ্যায় শিয়ালগুলো লোকালয়ে চলে আসে। গ্রামের লোকজনের প্রতিরোধের সেগুলো আবার পালিয়ে যায়।

শিয়ালের কামড়ে আহত ওমিসা বেগম নামের এক নারী বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় বাড়িতে কাজ করছিলেন। হঠাৎ একটি শিয়াল বাড়িতে ঢুকে কামড়ানো শুরু করে। হাত ও পায়ে কামড় দিয়ে শিয়ালটি পালিয়ে যায়। তাঁর পুরো শরীর ব্যথা হয়ে আছে। কোনো কাজ করতে পারছেন না।

বেতগাড়ি পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ময়না বেগম (৩৫) শিয়ালের কামড় আহত হয়ে হাসপাতাল গিয়েছিলেন। ভ্যাকসিন নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় তিনি বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় তিনি রান্না করছিলেন। হঠাৎ রান্নাঘরে শিয়াল ঢুকে দুই হাতে কামড়ে ধরে। গুরুতর জখম করে শিয়ালটি পালিয়ে যায়।

একই গ্রামের সুশান্ত রায় (২১) নামের এক যুবককেও বাড়ির সামনে থেকে শিয়ালে কামড়েছে।

মনোয়ারা বেগম নামের এক নারী জানান, তাঁর মা সালেহা বেগম (৭৫) শিয়ালের কামড়ে গুরুতর আহত অবস্থায় বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গ্রামের বাসিন্দা মো. মজনু মিয়া জানান, বুধবার সন্ধ্যায় অন্তত ৫০টি শিয়াল তাঁদের গ্রামে হামলা করে। অনেকেই জঙ্গল কেটে বাড়ি করছেন। এ কারণে থাকার জায়গা না পেয়ে শিয়ালগুলো এখন লোকালয়ে চলে আসছে।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. শফিক আমিন বলেন, শিয়ালের কামড়ে বেতগাড়ী গ্রামের ১১ জন বাসিন্দা বুধবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে আরও ১৩ জন বাসিন্দা শিয়ালের কামড় খেয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। তাঁদের সবাইকে ভ্যাকসিনসহ অন্যান্য ওষুধ দেওয়া হয়েছে।

শাজাহানপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফুয়ারা খাতুন বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, কিছু শিয়াল গ্রামবাসীর ওপর আক্রমণ করেছে। শিয়ালগুলোর বাসস্থান ও খাবারের সমস্যা থেকে তারা এ হামলা চালাতে পারে।’