ফেনী ১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী চান আওয়ামীলীগ সমর্থিতরা

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল

ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও ছাগলনাইয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

ফেনী প্রতিনিধি: ফেনী জেলার তিনটি সংসদীয় আসন রয়েছে ২ আসন জাতীয় পার্টির দখলে ফেনী ২ আসন আওয়ামী লীগ পেলেও ১ আসন আবার জাসদের দখলে। তাই তৃনমূল আওয়ামী লীগ নেতাদের ভিতরে তীব্র ক্ষোভ না-বলা অভিমান যেন বেড়েই চলেছে।  তবে এবার ফেনী ৩ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদীয় নির্বাচন করার জন্য আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও ছাগলনাইয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল।

ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল ২০১৮ সালের নির্বাচনেও ফেনী ১আসনে আওয়ামীলীগের নৌকার প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় জোট করায় আসনটি জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার জোটের অংশ হিসেবে নৌকার প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। বর্তমানে আসনটি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করায় জাসদের দখলে রয়েছে।

অপরদিকে খালেদা জিয়ার নির্বাচনী আসন ও বলা হয় ফেনী ১ আসন কে তাই আগামী নির্বাচনে আসনটি নিয়ে যেন আওয়ামী লীগ-বিএনপি’  যেমন নির্বাচনের মাঠে দৌড়ে রয়েছে তেমনি আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের দাবি কোন ভাড়াটিয়া অথবা কাউকে যেন এই আসনটি ছেড়ে দেওয়া না হয়।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরোলেও আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ এই আসনে তারা নৌকার প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের কাউকেই পাননি। তাই এখন থেকেই নির্বাচনের মাঠে আসনটি নিয়ে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা।

অপরদিকে মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল সাধারণ মানুষের কাছে হয়ে উঠছেন ১ আসনের এমপি, সভা-সমাবেশ সভাস্থল থেকে শুরু করে চায়ের দোকানে গেলেই দেখা যায় নির্বাচন নিয়ে তাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগেও  শোনা যাচ্ছে এই আসনটি এবার মেজবাউল হায়দার চৌধুরী নির্বাচন করবেন।

গত দুই বছর করোনা মহামারী শুরু হলে শুধু শুক্রবার বাড়িতে আয়োজন করে রেখেছেন সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করার এক মহাযজ্ঞ। যা তিনি এখনও অব্যাহত রেখেছেন, প্রতি শুক্রবারেই প্রায়ই দুই থেকে তিনশ মানুষ দূরদূরান্ত থেকে তার বাড়িতে যান। কারো মেয়ে বিয়ে দেওয়ার জন্য, আবার কারো মাথার উপরে একটু টিন গুজার জন্য।

কারো হয়তো পা নেই,  আবার কারো হয়তো হাত নেই। সাহায্যের দরজা খুলে রেখেছেন এই আওয়ামী লীগের নেতা তাই সাধারণ মানুষের আলোচনা ও পছন্দের শীর্ষে রয়েছেন তিনি।

করোনা মহামারীর মাঝেই মানুষকে এমন সহযোগিতায় জাতীয় গণমাধ্যমসহ বেশ সাড়া ফেলেছিলেন মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেলের এই সহযোগিতা।

মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বলেন বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ি ছিল ফুলগাজীতে, তাই বলতে পারেন বিএনপি’র দুর্গ ছিল এই ফেনী জেলা কিন্তু এই ফেনীতে এখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী আপনি প্রতিটা ঘরে, ঘরে পাবেন। কিন্তু আফসোস আমাদেরকে প্রতিবার সংসদীয় নির্বাচন আসলেই দিয়ে দেওয়া হয় ভাড়া করা পার্থী, আমাদের দুর্বলতা স্থান একটি তা হচ্ছে নৌকা। তাই আমরা প্রতিবার দলের সভাপতির কথা মাথায় রেখে আমরা নির্বাচন করেছি। কিন্তু এবার আমাদের দাবি একটাই আওয়ামী লীগের যেকোনো কাউকে যেন নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হয়। অন্যদিকে ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনেও নৌকার প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জনে ছিলেন মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল। তাই আমরা এবারও তাকেই এই আসন থেকে সংসদ দেখতে চাই।

ছাগলনাইয়া পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জসীমউদ্দীন জানান, আমরা দলের জন্য অনেক কিছু ত্যাগ করেছি, এখন স্বপ্ন দেখি এই আসনে আওয়ামী লীগের একজন প্রার্থী। এসময় তিনি দুঃসময়ের আওয়ামী লীগের পরিস্থিতি বর্ণনা করে বলেন। আমরা রাতে ঘুমাতে পারিনি কারণ এই আসনটিকে বলা হতো বিএনপি’র দুর্গ কিন্তু দুঃখজনক হলেও এখন আমরা যখন শক্ত অবস্থান করছি তখন আমাদেরকে জোটের কারণে অন্যদলের প্রার্থীর নির্বাচন করতে হয়।  আমরা চাই এই আসনে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  এই আসনের গত বারের নির্বাচনের প্রার্থী মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেলকে আমরা এমপি হিসেবে দেখতে চাই।

ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক, মজিবুর রহমান মুজিব বলেন “স্বাধীনতার পর থেকে আমরা যুদ্ধ করে আসছি। জেল, জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন,সহ্য করেও আমরা আওয়ামী লীগ করেছি দুঃসময়ে।  কিন্তু এখন হাইব্রিডরা এসে আমাদের অবস্থানকেও তারা নিম্নমানের গড়ে তুলেছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিকরা থাকতে এটা কখনোই হতে দিব না ইনশাল্লাহ। ফেনী ১ আসনের মাটি এখন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ভাড়াটিয়ার উপর আমরা নির্ভরশীল নই এই আসনে এবার যেকোন মূল্যে সোহেল ভাইকে আমরা চাই।

নির্বাচনের এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল সিপ্লাসটিভি কে জানান, নির্বাচন করলেই যে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো যাবে বিষয়টা এমন নয়। আমি বর্তমানে উপজেলা আওয়ামীলীগের দায়িত্বে রয়েছি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান ও। নির্বাচনের আগে থেকেই আমি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছি। তৃনমূল আওয়ামী লীগের চাহিদা এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ যদি আমাকে নমিনেশন দেন তাহলে আমি অবশ্যই নির্বাচন করব।

তিনি আরও বলেন এ আসনটি কে বলা হয় খালেদা জিয়ার আসন একসময় বিএনপি’র দুর্গ বলা হলেও এখন আওয়ামী লীগ বেশ শক্ত অবস্থানে করছে,এ আসনটিতে। তাহলে আওয়ামীলীগের কোন প্রার্থীকে নৌকা প্রতীক পাবেনা?  আমরা আর ভাড়াটিয়া দিয়ে নির্বাচন করতে চাই না। আমরা চাই দল থেকে যে কেউ নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করুক শুধু আমি নাহ। তবে আমাকে যদি দল যোগ্য মনে করে তাহলে আমি অবশ্যই নির্বাচন করব।