ফেনীতে প্রবাসীর বাড়ি দখল মুক্ত করতে সংবাদ সম্মেলন

ফেনীতে প্রবাসীর বাড়ি দখল মুক্ত করতে সংবাদ সম্মেলন
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীর দাগনভূঞায় আপন ছোট ভাই সৌদি ফেরত পলাতক আসামি সাহাব উদ্দিন (৩৮) ও তার স্ত্রী রুমা আক্তারের (৪৫) অত্যাচারে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বড় ভাই সৌদি প্রবাসী আলাউদ্দিন।

বাড়ি দখল মুক্ত করতে তিনি সোমবার (১ আগস্ট) রাতে শহরের ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।

দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের সেকান্তরপুর গ্রামের সুলতান আহাম্মেদের বাড়ির সৌদি প্রবাসী আলাউদ্দিন দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে বাড়ি ঢুকতে না পেরে বর্তমানে শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। নিজের অর্থে তৈরী করা বাড়ি ফিরে পেতে আদালত, থানা পুলিশ, জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়েন।

লিখিত বক্তব্যে সৌদি প্রবাসী আলাউদ্দিন বলেন, আমি জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ ২৩ বছর যাবত সৌদি আরবে বসবাস করছি। আমার আপন ছোট ভাই সাহাব উদ্দিন দীর্ঘ ১৭ বছর একটানা সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় গাড়ি চুরি, লোন এবং মানুষের টাকা আত্মসাৎ করার কারণে সৌদি আরবে তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার কারণে সে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে দীর্ঘ দিন যাবত এলাকায় ইয়াবার ব্যবসা করে আসছে। চলতি বছরের ৩ জুলাই ২০০ পিস ইয়াবাসহ পুলিশ তাকে হাতেনাতে আটক করে। বর্তমানে সে জেলহাজতে রয়েছে।

আলাউদ্দিন আরো বলেন, আমি বিগত ১২ বছর পুর্বে আমার গ্রামের বাড়িতে ফাউন্ডেশন সহ ৭ রুম বিশিষ্ট একটি দালান ঘর নির্মাণ করি। আমার স্ত্রী কামরুন নাহার ওই ঘরে নিয়মিত বসবাস করছে। সে মাঝে মাঝে তার বাবার বাড়িতেও গিয়ে থাকে। ছোট ভাই ও মামলার আসামী সাহাব উদ্দিন সৌদি আরব থেকে মামলার কারণে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আমার ১২বছর পূর্বে নির্মিত ঘর দখলের পায়তারা করতে থাকে। আমি ২০১৯ সালের ২০ জুন সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে এসে তিন মাস বাড়িতে অবস্থান করে ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর জীবিকার তাগিদে প্রবাসে চলে যায়। এরপর আমার ছোট ভাই ও তার স্ত্রী প্রতারক রুমা আমার এলাকার কিছু দুষ্কৃতকারী ও সন্ত্রাসীর সহযোগীতায় অন্যায়ভাবে আমার নির্মিত ঘর দখল করে। আমার স্ত্রী কামরুন নাহার তাদেরকে বাধা প্রদান করলে আসামীরা লোকমারত সামাজিকভাবে আমার স্ত্রীকে অপমান অপদস্থ করে। আমার স্ত্রী তার মায়ের অসুস্থতার কারনে বাবার বাড়িতে গেলে ওই বছরের (২০১৯) ৬ ডিসেম্বর ছোট ভাই সাহাব উদ্দিন (৩৮) ও তার স্ত্রী মোসাম্মর রুমা আক্তার (৪৫), আমার বড় ভাই গিয়াস উদ্দিন (৫২) ও তার স্ত্রী আলেয়া বেগম (৩৮) এবং আমার ভাতিজা (গিয়াস উদ্দিনের ছেলে) ফারুখ (২৪) আমার ঘরের সদর দরজা ভেঙ্গে আমার ঘরে থাকা দুটি মালামালে পরিপূর্ন লাগেজ, তিনটি ব্রিফকেস, ১১টি বিদেশী কম্বল, ৪০ ইঞ্চি সনিটিভি সহ প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল চুরি করা সহ আমার বশত ঘরের সকল জিনিসপত্র ভাংচুর এবং ধামা দিয়ে কেটে দশ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে।

ওই হামলা ও লুটপাটের ঘটনার আমার স্ত্রী ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর দাগনভুইয়া থানায় (জি আর মামলা নং-১৭৯/২০১৯, দন্ডবিধির ৪৪৮/৩৮০/৪২৭/৩৪ ধারা) মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামী সারেন্ডার করার সময় চুরির বিষয় স্বীকার করে চেয়ারম্যান থেকে অনুমতি নিয়েছে মর্মে জানালে আমলী আদালত আসামীকে সি/ডাব্লিউ মূলে জেল হাজতে প্রেরনের আদেশ প্রদান করেন।

ওই ঘটনার পর সকল আসামীদের সহযোগীতায় আসামী সাহাব উদ্দিন জামিনে যেয়ে ২০২০ সালের ১৩ মে আমার স্ত্রীকে মারধর ও হত্যার চেস্টা করে। ওই ঘটনায় আমার স্ত্রী দাগনভুইয়া থানায় আরও একটি মামলা (জি আর মামলা নং-৭৭/২০২০) দায়ের করে। ওই মামলার পর আসামীরা পুনরায় আমার ঘর দখলের চেস্টা করলে আমার স্ত্রী ২০২০ সালের ২৫ আগস্ট অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৪৫ ধারা মোতাবেক মিস মামলা নং-১৫০/২০২০) মামলা দায়ের করে। বিচারক আমার ঘর এর উপর স্থিতিবস্থার আদেশ প্রদান করেন। ওই তিনটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

প্রবাসী বলেন, আমরা ৬ ভাই এবং ১ বোন। আমর অপরাপর ভাই ও বোনরা উপরোক্ত আসামীদের এমন কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে সামাজিকভাবে চেস্টা করে মামলা মোকদ্দমা করেও কোন প্রকার সুফল পাওয়া যায়নি। আসামীগণ পরস্পর যোগসাজসে আমার দীর্ঘ ২৩ বছরের উপার্জন আত্বসাৎ করে আমাকে রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে আমার থাকার কোন জায়গা নেই। আমি বিভিন্ন জায়গায় সুবিচার পাওয়ার প্রার্থনা আনয়ন করেও কোন প্রকার সুবিচার পাইনি।