প্লাস্টিকের বর্জ্য দিয়ে জ্বালানি তেল আবিস্কার করে পাহাড়ে আলোচিত শফিক

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মাস্টার পাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম প্রকাশ শফিক ড্রাইভার নামে এক যুবক পরিত্যক্ত পলিথিন ও প্লাস্টিকের বোতল পুড়িয়ে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও এলপি গ্যাস তৈরি করে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন।

সাংবাদিক আবু নাছের এর কাছ থেকে খবর পেয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএনও) আহসান হাবীব জিতু স্থানীয় সাংবাদিক সুমন এবং কাউন্সিলর বাহার উদ্দিন সরকারকে সাথে নিয়ে শফিকুল ড্রাইভার এর পেট্রল তৈরি পদ্ধতি পরিদর্শন করেছেন। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাঘাইছড়ি উপজেলার মাস্টার পাড়া গ্রামের পুরাতন মারিশ্যাা জামে মসজিদের জায়গা লিজ নিয়ে ছোট্ট একটি বাড়ি তৈরি করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন শফিক । তিনি পেশায় একজন ট্রাক্টর চালক।

সরেজমিনে গেলে কথা হয়- উদ্ভাবক শফিক ড্রাইভারের সঙ্গে। তিনি সি প্লাস টিবির প্রতিবেদক কে বলেন, ইউটিউবে তেল তৈরির ভিডিও দেখে তিনি জ্বালানী তেল তৈরি করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এরপর বাড়ির উঠানেই একটি আবদ্ধ তেলের ড্রামে বেশকিছু পরিত্যক্ত পলিথিন রেখে আগুন দিয়ে তাপ দিয়ে পলিথিন গলিয়ে ডিজেল, পেট্রল অকটেন ও এলপি গ্যাস তৈরি করেন। এসব জ্বালানি তার নিজস্ব মোটরসাইকেলে দিয়ে চালনা করে এলাকার মানুষকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তার তৈরি পেট্রোল ও অকটেন অনেকে ব্যবহার শুরু করে দিয়েছেন বলে জানান তিনি। শফিক ড্রাইভার আরও বলেন, বাষ্পায়িত হয়ে ডিজেল ও নল দিয়ে বের হয় পেট্রল-অকটেন। সর্বশেষ পাইপ দিয়ে বের হওয়া গ্যাসে আগুন ধরিয়ে দিলে তা জ্বলতে থাকে। যত তাপমাত্রা বেশি দেয়া হয় তত বেশি তরল পদার্থ নির্গত হয়। সেইসঙ্গে গ্যাস বের হয়। এসব সংগৃহীত তরল পদার্থ দুটি পদ্ধতিতে পরিশোধন করা হয়। এক. ছাকন পদ্ধতি, দুই. থিতানো পদ্ধতি। তবে সে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বানিজ্যিক ভাবে উৎপাদন ও বিপণন করতে পারবে বলে জানান ।

এ ব্যাপারে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবীব জিতু বলেন, শফিক ড্রাইভার পলিথিন পুড়িয়ে জ্বালানি তৈরির বিষয়টি দেখলাম। এটি একটি ভালো উদ্যোগ। আগে দেখতে হবে তার প্রযুক্তি ব্যবহারে পরিবেশের কোন ক্ষতি হচ্ছে কিনা, যদি পরিবেশ বান্ধব হয় তাহলে আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আরও উন্নত ভাবে তৈরি করতে পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহযোগিতা লাগে তাহলে তা করার চেষ্টা করবো।