প্রশস্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে চশমা খালের

প্রশস্ত হচ্ছে চশমা খাল।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সামান্য বৃষ্টিতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরীর দুই নম্বর গেট ও আশপাশের বাসিন্দাদের। বর্ষা মৌসুমে ১৫-২০ মিনিটের বৃষ্টিতে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমে যায় এই এলাকায়। এছাড়া, খাল ও ড্রেনের পানিতে পড়ে বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন একাধিক পথচারী। দুই নম্বর গেট সংলগ্ন চশমা খালের প্রশস্ত সংকীর্ণ হওয়ার ফলে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নগরীর দুই নম্বর গেট সংলগ্ন ও আশপাশের এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে চশমা খালের প্রশস্ততা বাড়াতে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেড।

জানা যায়, সদ্য শেষ হওয়া বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতে নগরীর সিডিএ এভিনিউ, দুই নম্বর গেট ও এর আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে এলাকায় বসবাসকারী ও সড়কে যাতায়াতকারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। শুধুমাত্র চশমা খালের দুই পাড়ের প্রশস্ততা সংকীর্ণ হওয়ার ফলেই এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ২৬ ফিট প্রশস্তের খাল কোথাও কোথাও ৭ থেকে ৮ ফিটে নেমে এসেছে।

নগরীর ওয়াসা, জিইসি, দুই নম্বর গেটসহ আশপাশের কিছু এলাকার ড্রেনের পানি সরাসরি এসে পড়ে চশমা খালে। এই খাল থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি প্রবাহিত হতে না পারার কারণেই মূলত এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেড প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহ আলী বলেন, দুই নম্বর গেটের কবরস্থানের পাশে একটি কালভার্ট রয়েছে। ওয়াসা, জিইসি, দুই নম্বর গেটসহ আশপাশের আরো কয়েকটি এলাকার পানি এই ড্রেন হয়ে চশমা খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়। খালের প্রশস্ততা যেহেতু কম, পানির ফ্লো বেশি হলে পানি যেতে সমস্যা হয়। চশমা খাল পূর্বে প্রশস্ত ছিল সাড়ে ৩ মিটার থেকে ৪ মিটার। দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি যাওয়ার জন্য খালের প্রশস্ততা আমরা ৮ মিটার বা ২৬ ফিট করার জন্য কাজ শুরু করি।

তিনি আরো বলেন, চশমা খালের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। দুই নম্বর গেট থেকে ভূমি অফিস পর্যন্ত খালের প্রশস্ততা প্রায় ২৬ ফিট। কিন্তু এরপর থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত খালের প্রশস্ত খুবই কম। শিক্ষাবোর্ড ও আশপাশের কিছু জায়গায় আমাদের ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। যেহেতু ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সময় সাপেক্ষ। তাই তাদের অনুমতি নিয়ে আমরা কাজ শুরু করার জন্য অনুমতি নিয়েছি। যখন ভূমি অধিগ্রহণ হবে, তখন তারা টাকা পাবে।

আগামী বর্ষার আগেই কাছ শেষ হবে উল্লেখ করে প্রকল্প পরিচালক আরো বলেন, আমরা চেষ্টা করছি এই বছরের মধ্যে চশমা খালের কাজ শেষ করতে। মুরাদপুরের আশপাশের কিছু জায়গায় আমাদের স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ ছিল, যা আমরা সম্প্রতি শেষ করেছি। চশমা খালের কাজ যদি শেষ করতে পারি, তাহলে দুই নম্বর গেট থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত কোন জলাবদ্ধতা হবে না।

ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ায় নগরীর বিভিন্ন খালের প্রশস্ততা কমে এসেছে জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খালের প্রশস্ততা কমে যাওয়ার কারণে বৃষ্টি ও জোয়ারের সময় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় এই খালে কাজ করাও আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, জুনের শেষ পর্যন্ত ৭১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ৩০ জুন শেষ হয়েছে এবং মেয়াদ ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে আবেদন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সিডিএ’র ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ সময় ২০২০ সালের জুন মাস।

সম্প্রতি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন ও ব্যয় বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকার করার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানা যায়। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর করে সিডিএ।