পেলোসির সফর ঘিরে উত্তেজনা, পাল্টা পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত চীন

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও তাইওয়ানের সেনা মোতায়েনের সঙ্গে বাড়ছে উত্তেজনা।

তাইওয়ানকে বেইজিং নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবেই বিবেচনা করে। আজ মঙ্গলবার (২ আগষ্ট) রাতে ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান এসে পৌঁছেন। সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে পেলোসির সফরকে এক গুরুতর উস্কানি হিসেবে দেখছে চীন।

চীনা সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যেই কঠোর পালটা পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। চীনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশাসন তাদের ওয়েবসাইটে জানায়,  শানডং মেরিটাইম সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নেভিগেশন সতর্কতা জারি করে বোহাই সাগরের ওয়েইফাং বন্দর ৩ আগস্ট নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লাইভ ফায়ার পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশে কিংলান মেরিটাইম সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণ চীন সাগরের নির্দিষ্ট অঞ্চলে সামরিক প্রশিক্ষণ পরিচালনা করবে বলে একটি নেভিগেশন সতর্কতা জারি করেছে।
তাইওয়ানভিত্তিক গণমাধ্যম গতকাল শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানায় যে পেলোসি মঙ্গলবার তাইপে অবতরণ করবেন এবং সেখানে গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে অবস্থান করবেন।

সিএনএন জানিয়েছে ‘পেলোসি তার এশিয়া সফরের অংশ হিসাবে তাইওয়ান সফর করবেন’।

তাইওয়ানের প্রতিবেশী ফুজিয়ান প্রাদেশিক সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার লাইভ-ফায়ার মহড়ার ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে লিখে, ‘জটিল পরিস্থিতিতে যুদ্ধের সার্বিক সক্ষমতা পরীক্ষা করা হচ্ছে’। মিসাইল ইউনিট, বিমান ধ্বংসকারী আর্টিলারি ইউনিট, রাডার ইউনিট ও অন্যান্য যুদ্ধ ইউনিটও এ মহড়ায় অংশ নেয়।

নাম উল্লেখ না করে মঙ্গলবার রয়টার্স জানায়, পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র কয়েকটি বিমান মঙ্গলবার সকালে তাইওয়ান প্রণালীর ‘মধ্য রেখার’ কাছ দিয়ে উড়ে গেছে।

অন্যদিকে তাইওয়ান-ভিত্তিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে চীনের নেতৃত্বে দুটো গাইডেড-মিসাইল ফ্রিগেট ও একটি সার্ভে জাহাজ ইয়োনাগুনি দ্বীপের মধ্য দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে তাইওয়ানের দিকে যাত্রা করছে।

এদিকে জিয়ামেন এয়ারলাইন্স জানায়, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জিয়ামেন, ফুঝো ও কোয়ানঝোসহ ফুজিয়ান প্রদেশের বেশ কয়েকটি শহরের বিমানবন্দরের ফ্লাইট আংশিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

টুইটার এবং ওয়েইবোতে স্যাটেলাইট ছবি পোস্ট করে কয়েকজন নেটিজেন বলেন, চীনের বিমানবাহী রণতরী লিয়াওনিং ৩১ জুলাই পূর্ব চীনের কিংডাও ছেড়ে দক্ষিণ দিকে চলে গেছে। আরেক রণতরী শানডং ১ আগস্ট দক্ষিণ চীনের সানিয়া ছেড়ে উত্তর দিকে যাচ্ছে। দুটো রণতরীর মাধ্যমে তাইওয়ানে মিলিত অপারেশন চালানোর আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা।

সূত্র: গ্লোবাল টাইমস