পেকুয়ায় মেহেরনামাকে আলাদা ইউনিয়ন ঘোষণার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

পেকুয়া উপজেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ৭,৮ ও ৯নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত মেহেরনামা মৌজাকে আলাদা ইউনিয়ন করার দাবী নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে “মেহেরনামা ইউনিয়ন পরিষদ বাস্তবায়ন পরিষদ” নামক একটি সামাজিক সংগঠন।

শনিবার বিকালে পেকুয়া প্রেস ক্লাবের হলরুমে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মেহেরনামা ইউনিয়ন বাস্তবায়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক সমাজকর্মী নাছির উদ্দিন বাদশা।

এসময় তিনি বলেন, ১৯৩৫ সালে পেকুয়া ইউনিয়ন গঠিত হয়। পেকুয়া ইউনিয়নের আয়তন ৫৯৬৭, ১৩ একর। মোট জনসংখ্যা ৫২৫৮৮ জন। আর মেহেরনামা মৌজার আয়তন ২০২১, ১৩ একর। বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। আমাদের এই মেহেরনামা মৌজার ৩টি ওয়ার্ডের জনগণ দীর্ঘ ৮৫ বছর পর্যন্ত অনেকটা উন্নয়ন ও সেবা বঞ্চিত এবং অবহেলিত জনপদ।

এই জনপদে দীর্ঘ ৮৫ বছরের তেমন উন্নয়ন হয়নি। তদোপরি আমরা মেহেরনামার জনগণ পেকুয়া ইউনিয়ন নাগরিক সেবা ও সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার থেকে যুগে যুগে বঞ্চিত হয়েছি। গত জোট সরকারের আমলে মগনামাকে ভাগ করে উজানটিয়া, বারবাকিয়াকে ভাগ করে শিলখালী ইউনিয়নের রূপান্তরিত করা হয়। কিন্তু বিশেষ কারণে মেহেরনামা মৌজার জনতার প্রাণের দাবী মেহেরনামা ইউনিয়ন বাস্তবায়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছি আমরা। ফলে মেহেরনামা বাসী নাগরিক সেবা, গ্রাম আদালত, রাস্তাঘাটসহ নানাবিধ উন্নয়ন থেকে আজ মেহেরনামাবাসী অবহেলিত।

আমি মেহেরনামা ইউনিয়নের দাবীতে মেহেরনামা বাস্তবায়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক সমাজকর্মী নাছির উদ্দিন বাদশা গত ২৯ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পেকুয়া’কে মেহেরনামা মৌজাকে ইউনিয়নে রূপান্তরের জন্য আবেদন করি। ইউএনও মহোদয় ৪৫৬ নং স্মারক মূলে ৫ আগস্ট ১৯ইং জেলা প্রশাসক বরাবরে মতামত প্রেরণ করেন এবং গত ৮ আগস্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পৃথক সচিব মহোদয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণায় বরাবর আবেদন করা হয়। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পেকুয়া ইউএনওকে মেহেরনামা মৌজার তথ্য প্রেরণের জন্য একখানা পত্র প্রেরণ করেন। তারই আলোকে পেকুয়া ইউএনও মহোদয় গত ২৬ আগস্ট পেকুয়া ইউপি/১৯ মূলে পেকুয়ার প্যানেল চেয়ারম্যান মাহাবুল করিম মেহেরনামা ইউয়িননে রূপান্তরের লিখিত পত্র প্রেরণ করেন। পেকুয়া নির্বাচন ১০৮নং স্মারক মূলে ২৫ আগস্ট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১০৫৫২ জন লিখিতভাবে পত্র দেন। অন্যদিকে উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস ০২১নং স্মারক মূলে ২৪ আগস্ট মেহেরনামা মৌজার মোট জনসংখ্যা ২.৫৫ প্রবৃদ্ধির হার সহ প্রায় ২৫৩২২ জন জনসংখ্যার পত্র প্রেরণ করেন। এছাড়া সহকারী কমিশনার ভূমি পেকুয়া মেহেরনামা মৌজার মোট আতয়ন ২০২১.১৩ একর আয়তের পত্র প্রেরণ করেন। কিন্তু জেলা প্রশাসক মহোদয় ইউনিয়ন রূপান্তরে ধীরগতি প্রকাশ করায় দ্রুতগতিতে ইউনিয়ন বাস্তবায়ন হচ্ছেনা বলে তিনি দাবী করেন।

তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় একটি উচ্চ বিদ্যালয় ৪টি সরকারী প্রাইমারী স্বুল, ২টি ইবতেদায়ী, ১টি দাখিল মাদ্রাসা ২টি স্বাস্থ্য ক্লিনিক রয়েছে।

আজ বিষয়টি আমাদের দাবী নয় সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষণা পাওয়ার জন্য সরকারের কাছে লিখিত আবেদন দ্রুত গতিতে কার্যকরের জন্য আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ মাননীয় এম,পি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান করছি। এছাড়া বিগত ৩ অক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মমতাময়ী নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বরাবরে মেহেরনামাকে ইউনিয়নে রূপান্তরের আবেদনও করেছেন তিনি। প্রায় রাস্তা অবহেলিত ও যাতায়তের অযোগ্য। নেই স্বাস্থ্য সেবা, নেই জনসংখ্যার তুলনায় উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাইমারী স্কুল। জানা যায়, সংবাদ পাঠকারী এই সমাজকর্মী নাছির উদ্দিন বাদশা গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দুইদিন পূর্বে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশে নির্বাচনী মাঠে নেমে বিপুল সংখ্যক ভোট পেয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদন্ধীতা করেন। নির্বাচনের পর হতে থেমে নেই সমাজকল্যাণ মূলক কর্মকান্ডে। তিনি ইতোমধ্যে মাতামহুরী বেড়ীবার্ঁধ নির্মাণ, পেকুয়া বাজারের পল্লী বিদ্যুতের ঝুঁকিপূর্ণ খুটি নির্মাণ সহ পেকুয়া অবহেলিত রাস্তাঘাট উন্নয়নের স্ব স্ব দপ্তরে পেকুয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে উন্নয়নের আবেদন করেন।

তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা বিষয় নিয়ে সরকারের শিক্ষা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি উত্তর মেহেরনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এস.এম.সি’র সভাপতি সহ বিদ্যালয় বিহীন এলাকা বলির পাড়া প্রস্তাবিত শাহ আলম সওদাগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিদাতা তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব আবদুল হামিদ, সম্মানিত সদস্য সাবেক উপজেলা যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম (ক্যাপ শহীদ), শাহাব উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগের উপ-তথ্য গবেষণা সম্পাদক ইয়াছিন কামাল বাপ্পা ও বিশিষ্ট ছাত্রনেতা মোঃ সাইফুল ইসলাম। এসময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।