পাঙাশ পেয়ে ইলিশের দুঃখ ভুলছেন জেলে

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর সাগর ও নদীতে জাল ফেলা শুরু করেছেন জেলেরা। তবে জালে ইলিশের পরিবর্তে উঠছে পাঙাশ মাছ। বরিশালের পোর্ট রোডের পাইকারি মৎস্য মোকামের আড়তদাররা বলেছেন, শনিবার থেকে ইলিশের ট্রলারে নদীর পাঙাশ আসছে বেশি, ক্রেতারাও কিনছেন। ভালো দাম পেয়ে খুশি জেলেরা। এতেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করছেন তাঁরা।

জেলেদের বরাত দিয়ে আড়তদাররা জানিয়েছেন, মেঘনা, আড়িয়াল খাঁ, কালাবদর ও লতা নদীতে ইলিশের বদলে পাঙাশ মাছ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। রোববার পোর্ট রোডের মোকামে গিয়ে দেখা যায়, খুচরা বিক্রেতারা বড় বড় পাঙাশ সাজিয়ে হাঁকডাক দিচ্ছেন ক্রেতার জন্য।

বিক্রেতা ইলিয়াশ হোসেন বলেন, ‘অবরোধ শ্যাষ হওয়ার পর ইলিশের চেয়ে পাঙাশ আইতেছে বেশি, দামও একটু কম।’ মৎস্য শ্রমিক শফিক বলেন, ইলিশের আড়তদাররাই এখন পাঙাশ কেনাবেচা করছেন।

হিজলা উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী ধুলখোলার জেলে মোজাম্মেল হোসেন বলেন, নদীতে কুয়াশা বাড়লে পাঙাশ ধরা পড়ে বেশি। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতের পর বরিশাল অঞ্চলে শীত পড়া শুরু হয়েছে। এখন পাঙাশ পেয়ে ইলিশের দুঃখ ভুলে গেছেন তিনি। মকবুল মাঝি বলেন, শনি ও রোববার তিনি পাঙাশ পেয়েছেন আট হাজার টাকার। এ সময় ইলিশ পেয়েছেন মাত্র এক হাজার ২২০ টাকার।

রোববার পোর্ট রোডের পরেশ দাসের আড়তে বড় সাইজের ২৮টি পাঙাশ নিয়ে আসেন হিজলার চলকিল্লার শামীম ফকির। তিনি বলেন, ‘জাল পাতছিলাম ইলিশের লইগ্যা। পাইছি ২৮ পিস পাঙাশ। কার্তিক মাসের নিশির (শিশির) খাইতে পাঙাশ মাছ চক (ঝাঁক) বাইন্দা নদীতে ভাসে।’

সিকদার ফিসের স্বত্বাধিকারী জহির সিকদার বলেন, ইলিশের চেয়ে পাঙাশ বেশি আসায় দামও কম। আমদানি অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমবে। রোববার ৮-১০ কেজি ওজনের পাঙাশ পাইকারি ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। খুচরা বিক্রি হয়েছে ৫৫০-৬০০ টাকা দরে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক মো. লোকমান আলী বলেন, ইলিশ ব্যবস্থাপনায় সরকারের নানা উদ্যোগে নদ-নদীতে পাঙাশসহ অন্য মাছের সুরক্ষা ও প্রজনন বেড়েছে। শীতের শুরুতে পাঙাশ ধরা পড়ে। নিষেধাজ্ঞার পর মেঘনাসহ বিভিন্ন শাখা নদীতে ইলিশের পাশাপাশি পাঙাশ ধরা পড়ছে। আরও এক মাস পাঙাশের আধিক্য থাকবে।

বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আনিছুর রহমান তালুকদার বলেন, এখন পাঙাশের মৌসুম। তা ছাড়া জেলেরা আগের চেয়ে সচেতন হয়েছেন। এখন ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে পাঙাশের বাচ্চা নিধন করেন না। ইলিশ রক্ষার বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ায় পাঙাশের প্রজনন বেড়েছে।