নির্বাচন কমিশন আইন সংশোধনের দাবিতে কাপ্তাইয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিলেন আওয়ামী লীগ

কাপ্তাই উপজেলা ইউএনও এর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করছেন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

কাপ্তাই প্রতিনিধি: দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিটি ওয়ার্ডে মেম্বার নির্বাচনে দুইজন প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী থাকলে অন্য প্রার্থীকে হত্যা করে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হওয়ার সংস্কৃতি চালু হয়ে যাবে এবং সন্ত্রাসীরা বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধির মুখোশ পড়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালানোর উৎসাহ পাবে। তাই আমরা নিন্ম সাক্ষরকারীগণ উক্ত আইন সংশোধনের আবেদন জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট।

এই দাবিতে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৪ নং কাপ্তাই ইউনিয়ন  আওয়ামী লীগের দলীয় প্যাডে প্রায় ৫ শত জন স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি  মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টায় কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান এর মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট  প্রদান করা হয়েছে। সেইসাথে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনের সচিব কে অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে।

কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুইছাইন চৌধুরী এবং কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মফিজুল হকের নেতৃত্বে এই স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপিতে উল্ল্যেখ করা হয়, গত ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চতুর্থ ধাপের ঘোষিত তফসিল মোতাবেক সেই বছরের ২৬ অক্টোবর মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ১১ নভেম্বর ভোট গ্রহনের তারিখ নির্ধারন ছিল। তফসিল অনুযায়ী কাপ্তাই উপজেলার  ৪ নং কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের  ৫ নং ওয়ার্ডের দুই দুই বার বিপুল ভোটে নির্বাচিত ইউপি সদস্য সজিবুর রহমান সজিব ও ইমান আলী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন এবং জমা দেন। মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই ইমান আলী তার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী সজিবুর রহমান সজিবকে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের জন্য নানান ভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। সর্বশেষ মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৬ অক্টোবর সজিবুর রহমান সজিব মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার না করায় একইদিন রাতে কাপ্তাই নতুনবাজার এলাকায় কিছু মাদকাসক্ত, মাদক ব্যবসায়ী, হত্যা সহ একাধিক মামলার আসামী এবং ইউপি সদস্য প্রার্থী ইমান আলী সহ ৪০ থেকে ৫০ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী সজিবুর রহমান সজিবকে নির্মমভাবে পিটিয়ে  হত্যা করে। পরের দিন সজিবুর রহমান সজিবের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে দাফনের পর সজিবের বোন বাদী হয়ে ইমাম আলীকে দুই নাম্বার আসামী করে এজাহার ভুক্ত ৩২ জন এবং অজ্ঞাত আরোও কয়েকজনকে আসামী করে কাপ্তাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

স্মারকলিপিকে আরোও উল্ল্যেখ করা হয় যে, পরবর্তীতে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাচন কমিশন ঐ ওয়ার্ডের ভোট গ্রহন স্থগিত করলেও  সজিব হত্যা মামলার ২ নং আসামী ইমাম আলী জামিনে বেরিয়ে আসার পর নির্বাচন কমিশন তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ঘোষণা করেন। যা কাপ্তাই উপজেলাবাসীদের হতবাক করেছে। আমরা এই আইনের বাতিল চাই।

স্মারকলিপি প্রদানকালে এই সময় কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও ৪ নং কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুল লতিফ, চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন মিলন, ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চিরনজীত তনচংগ্যা, কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাগর চক্রবর্তী, কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নাছির উদ্দীন, কাপ্তাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আকতার আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত, মানব বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন,  প্রচার সম্পাদক সুলতান আহমদ, সহ প্রচার সম্পাদক রঞ্জিত মল্লিক, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ আলী, কাপ্তাই ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি চাথোয়াই মারমা, কাপ্তাই উপজেলা ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি এম নুর উদ্দিন সুমন, কাপ্তাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক  লীগের সভাপতি মহিম উদ্দিন, ইউনিয়ন ছাত্র  লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি মোঃ রাসেল সহ উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুইছাইন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, আজকে আমরা এই কালো আইন বাতিলের দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছি। একটি ওয়ার্ডে ২ জন প্রার্থীর মধ্যে একজন সন্ত্রাসী কর্তৃক নিহত হলে বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় অপর প্রার্থীকে নির্বচিত করার যেই বিধান নির্বাচন কমিশনে আছে আমরা সেই আইনের বাতিল চাই।

কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুল লতিফ, চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন মিলন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাগর চক্রবর্তী এই আইন বাতিল এবং সংশোধনের দাবি জানান।

এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোন ওয়ার্ডে শুধু মাত্র ২ জন সদস্য প্রার্থী থাকলে তাদের মধ্যে যে কোন একজন মৃত্যু বরণ করলে অন্যজনকে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় সদস্য পদে নির্বাচিত ঘোষণা করার বিধান নির্বাচন কমিশন এর আইনে আছে। আমরা নির্বাচন এর নির্দেশ পালন করেছি।