নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন পর্যটন কেন্দ্রে যত অভাব

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

হাবিবুর রহমান সোহেল,নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:  সন্ধ্যা হলেই পর্যটন এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেন পর্যটকদের। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে আনচার বাহিনীর সদস্যরা বাঁশি বাজিয়ে পর্যটকদের উপবন এলাকার বাইরে বের করে দিতে দেখা গেছে। এমনটি করার কারন হিসাবে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে করা হচ্ছে বলে জানান উপজেলা প্রশাসন। তবে আগত পর্যটকদের দাবী এসব অনিয়ম।

চট্রগ্রাম বিভাগের একমাত্র উপবন পর্যটন কেন্দ্র বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি পর্যটন লেক। সেখানে প্রতিদিন শত শত পর্যটক প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গেলেও বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগেই আনচার পুলিশের বাঁশির সাথে সাথে পর্যটন এলাকা খালি করে নেমে আসতে হয়। এভাবে  চলছে প্রকৃতির অপরূপ সুন্দর্য্যরে লীলাভুমি নাইক্ষ্যংছড়ি পর্যটন কেন্দ্র। তবে স্থানীয়রা বলছে ভিন্ন কথা। তারা বলছে, যদি পর্যাপ্ত লাইটিং করা হয় তবে দিনের চাইতে রাতে এখানে পর্যটক বেশি হবে। কারন প্রকৃতির কাছে থাকার জন্য পর্যটকরা হাজার হাজার টাকা খরচ করে এখানে বেড়াতে আসে। যদি লাইটিং করা হয় তবে পর্যটক বাড়বে সেই সাথে সরকার রাজস্ব খাতেও আয় বাড়বে।

কক্সবাজার থেকে নাইক্ষ্যংছড়ির দূরত্ব বেশি না হওয়ার কারনে কক্সবাজারে আসা অনেক পর্যটক পাহাড় প্রকৃতি দেখতে নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুরতে আসে। রুজিনা আক্তার রুজি জানান, সন্ধ্যার পর বাতির ব্যবস্থা না থাকা ও পর্যাপ্ত  আইনশৃংখলা বাহিনী মোতায়েন না করার কারণে পর্যটকরা এখানে  নিরাপদ নয়।স্থানীয়দের দাবি যদি জেলা পরিষদ ডাক বাংলো থেকে উপবন এলাকা পুরো লাইটিং করা হয় নিরাপত্তার জন্য পুলিশ চৌকি বসানো হয় তবে পর্যটকরা রাতেও সময় কাটাতে পারবে। তারা আরো বলেন, নাইক্ষ্যংছড়িতে শুধু  লেক নয় দেশের একমাত্র গয়াল গবেষণা কেন্দ্র, শৈলচুড়া, প্রাচীন মন্দির,চা বাগান,প্রাকৃতিক ঝর্ণাসহ এখানে দেখার আরো অনেক কিছু রয়েছে। যদি পর্যটক এখানে অবস্থান করে তবে নাইক্ষ্যংছড়ি পর্যটনখাতে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। তৈরি হতে পারে পর্যটক উদ্যোক্তা।

সম্প্রতি গেল ঈদে হাজারও দর্শনার্থী নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন পর্যটন কেন্দ্র দেখতে যায়। সবাই ঝুলন্ত ব্রীজ থেকে শুরু করে সবে নির্মিত ওয়াচ টাওয়ারে উঠে প্রকৃতি দেখা,লেকের পানিতে নৌকায় চড়া, সবাই যেন বেশ ভাল সময় কাটাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহুর্তে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতেই আনচার পুলিশের বাঁশির আওয়াজ শুনে আগত পর্যটকরা জানতে চাইলে  দায়িত্বরত এক আনচার সদস্য জানান, সন্ধ্যা ৬টার পর আমরা উপবন পর্যটন এলাকা বন্ধ করে দিই।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন পর্যটন কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছে প্রায় ২৯ বছর হলো। প্রশাসন ও স্থানীয়দের থেকে জানা যায়, জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরে প্রায় ছয় একর পাহাড়ি এলাকাজুড়ে ১৯৯১ সালে উপবন পর্যটন লেক পর্যটন কেন্দ্রটি গড়ে তোলে উপজেলা প্রশাসন। বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে তৎকালিন ই্উএনও আকরাম খান এই পর্যটন কেন্দ্র করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কক্সবাজার থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটারের দূরে এই লেকটি অবস্থিত। বান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে জেলা পরিষদ ডাক বাংলো ঘেঁষে উপবন লেকের অবস্থান। এটি একটি কৃত্রিম হ্রদ। এ স্থানটি ইকো ট্যুর ও পিকনিক স্পট হিসেবে বেশ পরিচিত। সবুজ আর নীলের মাঝে লেকের বুক চিরে দাড়িয়েছে আছে ঝুলন্ত ব্রিজ। অসাধারণ সেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। একে আরো সৌন্দর্য্যমন্ডিত করে তুলেছে দৃষ্টিনন্দন সারি সারি বিভিন্ন প্রজাতির সবুজ পাতার গাছ গুলো। এখানে মাছ ধরা ও নৌকা ভ্রমণের সুবিধা রয়েছে। রয়েছে পাহাড়কন্যা নাইক্ষ্যংছড়ির মনোরম ছায়ানিবিড় সৌন্দর্য অবলোকনের সুযোগ। যা আনন্দের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এখানে বনের মাঝে গড়ে তোলা হয়েছে আকাশ বাড়ি, পিকনিকের জন্য ছোট্ট বেশ কয়েকটি ঘর। চারদিক সবুজ অরণ্য ঘেঁষে পাহাড় চূড়ার উপর প্রাকৃতিক হ্রদ। সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন কচি থাকা কালিন তিনি উপবন লেককে আরো সুন্দর ও পর্যটক আকৃষ্ট করতে পানির পোয়ারা,ইকো টুরিজ্যম, পর্যটকরা যেন বসতে পারে তেমন কিছু স্পটসহ বেশকিছু উন্নয়নমূলক কাজ করেছিলেন। এমন দৃষ্টিনন্দন রূপ যে কোন মানুষকে মুগ্ধ করলেও  সন্ধ্যার পর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পর্যটক রাতের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা থেকে বঞ্চিত বলে জানান।

কুমিল্লা থেকে আস পর্যটক রুমি জানান, এসেছিলাম কক্সবাজার । নাইক্ষ্যংছড়ির অপরূপ সুন্দর্যের কথা শুনে এসেছিলাম। বেশ সুন্দর করে সাজানো হয়েছে লেকটি।  তবে সন্ধ্যার আগেই লেক ছাড়তে হলো । এখানে থাকার ব্যবস্থাও বেশ ভাল ছিল। লেক থেকে নামতেই জেলা পরিষদের বাংলো রয়েছে। কিন্তু তারা যখন রাতে সেখানে ডুকতে দিচ্ছেনা সে কারনে কক্সবাজার ফিরে যাচ্ছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পর্যটন লেকের পাশের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, যদি ডাক বাংলো থেকে লেক পর্যন্ত আকাবাকা সড়কে সড়ক বাতি দেওয়া হয় তবে পর্যটন এলাকা যেমন সুন্দর হবে ঠিক তেমনি রাতে পর্যটক এখানে অবস্থান করলে চাহিদা অনুযায়ী হোটেল মোটেল জোনও সৃষ্টি হবে।

এব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা ফেরদৌসির সাথে কথা হলে তিনি জানান, নিরাপত্তার কথা বিচেনা করে আমরা এখন সন্ধ্যার পর লেক বন্ধ রাখছি। যদি উপবন উন্নয়নখাতে বারদ্দ আসে তবে পর্যটকদের সেখানে থাকার এবং লাইটিং এর ব্যবস্থা কার হবে। এই ঈদে থানা থেকে পুলিশ পোর্স চেয়েছিলাম ৮ থেকে ১০ জন। লোকবল কম থাকিার কারণে মাত্র দুজন পুলিশ নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত ছিল । সাথে কিছু অদক্ষ আনচার কর্মী দিয়ে পর্যটক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে হয়েছে।