নাইক্ষ্যংছড়িতে খুনাখুনি বাড়ছে: দিদার হত্যার দায়ে আটক ১

ছৈয়দুল আমিন
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি: নাইক্ষ্যংছড়িতে সম্প্রতি খুনের মতো জঘন্য ঘটনা বাড়ছে। দপ্তরি দিদারুল আলম খুনের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে আসামী করা হয় ১ জনকে। তার নাম ছৈয়দুল আমিন। সে একই মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বান্দরবানের বিজ্ঞ আমলী আদালতে খুনে অভিযুক্ত এ ছাত্র ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। বলে কিলার সে একজনই। ঘটনার কথা স্বীকার করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ধীমান বড়ুয়া বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে আসামী ছৈয়দুল আমিনকে ২ ঘন্টা যাবৎ জেরা করা হয়। সেখানে আসামী অপকটে স্বীকার করে সে নিজেই লম্বা দা দিয়ে দপ্তরী হাফেজ দিদারুল আলমকে এক কোপে খুন করে। সূত্র জানান-দিদারুল কে খুন করা হয় মঙ্গলবার। বুধবার খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মাদরাসার ২ ছাত্রকে আটক করে পুলিশ। একজন ছৈয়দুল আমিন অপরজন তানভিরুল ইসলাম আকাশ। একই দিন রাতে আকাশকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। আর ছৈয়দুলকে আসামী করে মামলা করে নিহতের পিতা মোঃ ইসলাম। পুলিশ জানান, এ ঘটনায় খুন হওয়া দিদারুল আলম নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চাকঢালা এলাকার ফজুরছড়া গ্রামের হাজী ইসলাম মিয়া সওদাগরের ছেলে। তিনি একজন হাফেজ এবং একই স্থানীয় আমতলীস্থ মহিচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার খণ্ডকালীন দপ্তরি।

অপরদিকে ঘাতক ছৈয়দুল আমিন ও হাফেজ। তার বয়স ১৭ বছর ৪ মাস। সে এলাকার পূর্ব আমতলী মাঠের মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে। সে আমতলীস্থ চাকঢালা মহিচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। স্থানীয়রা জানান, এ খুনের একমাত্র কারণ ছিলো নারী ঘটিত। যাতে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় দিদার। আর সে কারণেই খুন হয় সে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র গুলো জানান, দু’হাফেজের দ্বন্দ্ব শুরু হয় প্রেম ঘটিত একটি বিষয় নিয়ে। ক’দিন আগে হাফেজ ছৈয়দুল আমিন ছুটির পর মাদরাসার অপর এক ছাত্রী  বন্ধবির সঙ্গে মাদরাসার শ্রেণি কক্ষে একান্তে কথা বলার সময় দপ্তরি দিদার আলম বিষয়টি দেখে তা গোপনে ভিডিও করে। আরো একটু পরে দপ্তরী তাদেরকে সেখান থেকে বের করে দেয়ার সময়  তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। ছৈয়দুল আমিন সে দিন হুমকি দেয় দিদারকে দেখে নেবার। এদিকে দিদার সেই বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জানালে ওই দিন বৈঠকে বসেন শিক্ষকেরা। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতে ছৈয়দুলকে নির্দেশ দেয়া হয় বুধবার (৯ নভেম্বর) তার পিতাকে নিয়ে মাদরাসায় হাজির হতে ।

কিন্তু ছৈয়দুল চিন্তা করে যাতে সে অপরাধী সাব্যস্ত হবে। বিচার হবে। এ বিচারের আগেই প্রমান উপস্থাপন হলে তার চরম ক্ষতি হবে ভেবে সে দিদারকে খুনের সিদ্ধান্ত নেয় বলে ছৈয়দুল আমিন জানান পুলিশকে। ছৈয়দুল আমিন আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে  আরো বলেন,সে বৈঠকে বসার আগেই তার পথের কাটা সরাতে দপ্তরি দিদারকে খুনের পরিকল্পনা করে সে।  সে অনুসারে ঘরের ধানক্ষেত ও বাগানের কাজে ব্যবহৃত লম্বা দা টি ধার দেয় ২/৩ দফা মঙ্গলবার বিকেলে । পরে একইদিন দিদারকে  খুনের জন্যে (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পাহারা বসায় তার বাড়ির সামনের রাস্তা খানেকা মসজিদ এলাকায়। পরিকল্পনা মাফিক নির্জন রাস্তায় দা নিয়ে টহল দেয় আধ ঘন্টা৷ যা কয়েকজন দেখে ফেলে ঘটনা। কিন্তু কারণ বুঝতে পারে নি কেউ।  এরই মধ্যে এশা আজান দিলে দপ্তরী দিদার খানেকা মসজিদে নামাজ পড়ে। শেষ হয় ৭ টা ৪০ মিনিটে। তার পর বাড়ি ফেরার পথে মসজিদ থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে তাকে লম্বা দা দিয়ে পেছন থেকে এক কোপ মারে। ঘটনাস্থলেই দপ্তরি দিদারের মৃত্যু ঘটে।

নাইক্ষংছড়ি থানার ওসি তদন্ত মোঃ শাহজাহান বলেন, ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী নিহতের পিতা মোঃ ইসলাম। আসামী এক জন। সে গ্রেপ্তার আছে। তাকে বান্দরবান কোর্টে পাঠানো হয় যথা নিয়মে। সেখানে ১৬৪ ধারায় সে জবানবন্দি দেয়। এর আগে বুধবার রাতে আসামীর স্বীকারোক্তিতে খুনে ব্যবহৃত লম্বা দা টি উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে নিহতের স্ত্রী খালেদা বেগম ও নিহতের পিতা মোঃ ইসলাম খুনের কারণ হিসেবে একটি ভিডিওকে চিহ্নিত করেন। তারা ঘটনায় অভিযুক্ত ছৈয়দুল আমিনের ফাঁসীর দাবি জানান।পাশাপাশি এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের ও খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানান ।