নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়: ট্রাস্টি বোর্ডের অনিয়ম

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: এ নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি জঙ্গিবাদে পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থায়নের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিষয়টি উদঘাটনে আরো একটি তদন্ত দল গঠনও করেছে সংস্থাটি। দুর্নীতির মামলায় ট্রাস্টি বোর্ডের ৪ সদস্য কারাগারে আছেন। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

১৯৯২ সালে যাত্রা শুরুর পর বিত্তবানদের মধ্যে বেশ আলোড়ন তোলে দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি ডুবতে বসেছে ট্রাস্টি বোর্ডের আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতায়।

প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গতবছর মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ক্যাম্পাসের জায়গা কেনার নামে ৩০৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ মামলায় ইতোমধ্যে কারাগারেও গেছেন ওই বোর্ডের চার সদস্য। তাদের কারাগারের গেইটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। পলাতক দুই আসামিকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত।

দুদকের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার খাতের টাকা দিয়ে দশটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনা হয়। যা বোর্ডর সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করতেন। এই অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে সেই গাড়ি বিক্রির নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এমন সব অভিযোগ পাওয়ার পর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মালিকদের সংগঠন তাদের সতর্ক করলেও কর্ণপাত করেনি নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদ। এমনটাই জানালেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বলছেন, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নিয়ে এক লাখ টাকা করে সম্মানী নিতেন। নিয়ম না থাকলেও বোর্ডের প্রতি সদস্যদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখা হয়েছে আলাদা আলাদা বিলাসবহুল অফিস।

ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে স্বেচ্ছাচারিতা চালাচ্ছে বলে মনে করে ইউজিসি। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগও আছে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।