নর্থ সাউথের দুই ট্রাস্টিকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: অর্থ আত্মসাতের মামলায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই ট্রাস্টি এম এ কাশেম ও রেহানা রহমানকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তাদের কেন জামিন দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে জারি করা রুল মঞ্জুর করে আজ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি ফাহমিদা কাদের। গত ২ আগস্ট এ রুল দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

আদালতে জামিনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক ও সাঈদ আহমেদ রাজা।

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দুটি শর্তে আদালত তাদের অন্তবর্তী জামিন দিয়েছেন। এক. তারা দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। দুই. অনুমতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যেতে পারবেন না। ’

কী যুক্তিতে জামিন চাওয়া হয়েছিল জানতে চাইলে এ আইনজীবী বলেন, ‘জামিন আবেদনকারীদের একজন বয়স্ক (এম এ কাশেম)। অন্যজন নারী। তাছাড়া মামলার এফআইআরে ত্রুটি আছে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, তদন্তে আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ মেলেনি। ’

এর আগে গত ২২ মে তাদের আগাম জামিন আবেদন খারিজ করে পুলিশের হাতে তুলে দেন হাইকোর্ট। এর পরদিন তাদের নিম্ন আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সেই থেকে তারা কারাবন্দি।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জমি কেনা বাবদ অতিরিক্ত ৩০৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয় দেখিয়ে তা আত্মসাতের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গত ৫ মে মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী।

আসামিরা হলেন- তৎকালীন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদ, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এম এ কাশেম, বেনজীর আহমেদ, রেহানা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান এবং আশালয় হাউজিং ডেভেলপার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিন মো. হিলালী।

মামলায় বলা হয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের কয়েকজন সদস্যের অনুমোদন/সম্মতির মাধ্যমে ক্যাম্পাস উন্নয়নের নামে ৯০৯৬ দশমিক ৮৮ ডেসিমেল জমির দাম ৩০৩ কোটি ৮২ লাখ ১৩ হাজার ৪৯৭ টাকা বেশি দেখিয়ে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলের টাকা আত্মসাতের জন্য কম দামে জমি কিনলেও বেশি দাম দেখিয়ে প্রথমে বিক্রেতাকে টাকা দেন। পরে বিক্রেতার কাছ থেকে নিজেদের লোক দিয়ে নগদ চেকের মাধ্যমে টাকা তুলে আবার নিজেদের নামে এফডিআর করেন। পরে এফডিআর ভেঙে টাকা আত্মসাৎ করেন। এই প্রক্রিয়ায় টাকা আত্মসাত করে তারা অর্থ পাচারের অপরাধ করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।