নভেম্বরে রেকর্ড রপ্তানির তথ্য দিয়েছে ইপিবি

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে আসা এবং দেশে জ্বালানি সংকটের মধ্যেই গেল নভেম্বরে পণ্য রপ্তানিতে রেকর্ড হয়েছে। মাসটিতে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৫০৯ কোটি ডলারের, একক মাস হিসেবে যা সর্বোচ্চ। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ ৪৯১ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। তবে এত সংকটের মধ্যে রপ্তানির এ পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রপ্তানিকারকরা।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নভেম্বরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি বেশি হয়েছে ১৭ শতাংশ। আর গত বছরের একই মাসের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের গত পাঁচ মাসের (জুলাই-নভেম্বর) সার্বিক রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হয়েছে ১ শতাংশের মতো। গত পাঁচ মাসে মোট ২ হাজার ১৯৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছে ১ হাজার ৮৩৩ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে এ খাতে রপ্তানি বেশি হয়েছে ১৬ শতাংশ।

তবে রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের মধ্যে ইপিবির পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নিট পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গনমাধ্যমকে বলেন, ইপিবির পরিসংখ্যান দেখে তাঁরা বিস্মিত। রপ্তানিকারকরা এত পরিমাণ রপ্তানি করেননি। ইপিবির সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছেন তাঁরা। ইপিবি বলেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছ থেকে তাঁরা তথ্য নিয়েছে। কোনো গরমিল থাকলে এনবিআর ভালো বলতে পারবে। এনবিআর বলেছে, তাদের সিস্টেমে যা পেয়েছে তা-ই প্রকাশ করা হয়েছে। বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি আরও বলেন, প্রতিদিনই রপ্তানি নিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তাঁরা। এ ছাড়া ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশনের (ইউডি) তথ্যের সঙ্গেও ইপিবির ডাটা মিলছে না। ইউডি অনুযায়ী, রপ্তানি আরও অনেক কম হওয়ার কথা। ইউডি হলো, রপ্তানি আদেশ পাওয়ার পর শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির অনুমতি সনদ। সরকারের পক্ষে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ এ সনদ দিয়ে থাকে। রপ্তানিকারকদের সংশয় নিয়ে ইপিবির মতামত পাওয়া সম্ভব হয়নি। খুদে বার্তা এবং বারবার মোবাইলে যোগাযোগ করেও সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান এএইচএম আহসানের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ এবং গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান গনমাধ্যমকে বলেন, রপ্তানিকারকরা তথ্যের গরমিল মনে করলে ইপিবি এবং এনবিআরের সঙ্গে কথা বলে নিতে পারেন। তবে ইউডির ডাটার প্রকৃত প্রতিফলন পেতে আরও সময় লাগার কথা। সে হিসেবে ইউডি এবং ইপিবি কিংবা এনবিআরের তথ্যে মিল নাও থাকতে পারে। তাঁর মতে, রপ্তানি বৃদ্ধিতে বাজারের অস্থিরতাও একটা কারণ হতে পারে। ভোক্তা আচরণের পরিবর্তনের কারণে কোনো মাসে চাহিদা কমছে, তো পরের মাসেই বাড়ছে। আর প্রকৃতই যদি রেকর্ড পরিমাণ রপ্তানি হয়ে থাকে তাহলে এ মুহূর্তে তা দেশের জন্য অনেক বড় সুখবর।

ইপিবির প্রতিবেদন বলছে, গত পাঁচ মাসে তৈরি পোশাকের বাইরে রপ্তানি তালিকার অনেক পণ্যের রপ্তানি কমেছে। কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে ২৩ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১৮ শতাংশ কমেছে রপ্তানি। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে গত পাঁচ মাসে রপ্তানি কম হয়েছে ১০ কোটি ডলারের মতো। ৪৩ কোটি ডলারেরও কিছু কম রপ্তানি হয়েছে বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য। গত অর্থবছরের এ সময়ের রপ্তানি ছিল ৫২ কোটি ডলারেরও বেশি।