নতুন করে পানির দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব ঢাকা ওয়াসার

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: ‘রাজধানীর নিম্নবিত্ত গ্রাহকদের জন্য প্রায় আড়াই টাকা কমিয়ে এবং উচ্চবিত্তদের জন্য ২২ টাকা বাড়িয়ে পানির দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব করেছে ঢাকা ওয়াসা। এ পদ্ধতি চালু করা হলে পানিতে আর ঢাকা ওয়াসাকে ভর্তুকি দিতে হবে না। এটি বাস্তবায়িত হলে ৯৭ দশমিক ১ শতাংশ গ্রাহকের পানির দাম ইউনিটপ্রতি বাড়বে ৩ টাকা ৫৭ পয়সা থেকে ২২ টাকা ৩২ পয়সা। এর বিপরীতে মাত্র দুই দশমিক ৯ শতাংশ গ্রাহকের পানির দাম কমবে ইউনটি প্রতি ২ দশমিক ৬৮ টাকা।

রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাকা ওয়াসার পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

বর্তমানে দুই ক্যাটাগরিতে ঢাকা ওয়াসা পানির বিল আদায় করে। একটি বাণিজ্যিক ও অন্যটি আবাসিক। আবাসিক পর্যায়ে প্রতি গ্রাহককে প্রতি ইউনিট (১ হাজার লিটার) পানির দাম পরিশোধ করতে হয় ১৫ টাকা ১৮ পয়সা। বাণিজ্যিক গ্রাহকদের দিতে হয় ৪২ টাকা। ঢাকা ওয়াসার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ইউনিট পানির উৎপাদন খরচ অন্তত ২৫ টাকা।

ঢাকা ওয়াসার প্রস্তাবনায় সাতটি ক্যাটাগরি করা হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চবিত্ত গ্রাহকদের পানির দাম ধরা হয়েছে ৩৭ টাকা ৫০ পয়সা। রাজধানীতে এ ধরনের গ্রাহকের পরিমাণ শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। উচ্চমধ্যবিত্তের জন্য দাম ধরা হয়েছে ৩১ টাকা ২৫ পয়সা। এ ধরনের গ্রাহক আছেন ১ দশমিক ৩ শতাংশ। মধ্যবিত্তের জন্য দাম প্রস্তাব করা হয়েছে ২৫ টাকা। এ ধরনের গ্রাহক ৪ শতাংশ। নিম্ন মধ্যবিত্তের দাম ধরা হয়েছে ১৮ টাকা ৭৫ পয়সা। এ ধরনের গ্রাহকের পরিমাণ ৭৯ দশমিক ৪ শতাংশ। নিম্নবিত্ত গ্রাহকের জন্য দাম ধরা হয়েছে ১২ টাকা ৫০ পয়সা। এ ধরনের গ্রাহক আছেন ২ দশমিক ৯ শতাংশ। বাণিজ্যিক গ্রাহকের পানির দাম প্রস্তাব করা হয়েছে ৫০ টাকা। এ ধরনের গ্রাহক আছে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পানির দাম প্রস্তাব করা হয়েছে উৎপাদন খরচের সমান ২৫ টাকা। এ ধরনের গ্রাহক আছে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ।

ওয়াসার প্রস্তাব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রস্তাবটি কার্যকর করা হলে ৯৭ দশমিক ১ শতাংশ গ্রাহকেরই পানির দাম বাড়বে। এর বিপরীতে কেবল ২ দশমিক ৯ শতাংশ নিম্নবিত্ত মানুষ সুবিধাভোগী হবেন।

এ প্রসঙ্গে কনজুমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ব্যবহারের মাত্রা, পিক ও অফ পিক আওয়ারের বিলের পার্থক্য আছে। কিন্তু পানির ক্ষেত্রে এটা ঠিক হবে না। কারণ পানি পাওয়া প্রত্যেকটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। ঢাকা ওয়াসা এসব ক্যাটাগরি কোন ভিত্তিতে করবে, কিভাবে ক্যাটাগরির মানদণ্ড নির্ধারণ করবে সেসব বিষয়গুলোও অবহিত করতে হবে।

ওয়াসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াটার এইড ও ঢাকা ওয়াসা যৌথভাবে পর্যালোচনা করে এই প্রস্তাবটি তৈরি করেছে। অনুষ্ঠানে প্রস্তাবনাটি উপস্থাপন করেন ঢাকা ওয়াসার কারিগরি উপদেষ্টা তাহমিদুল ইসলাম। তিনি জানান, এটি ঢাকা ওয়াসার এলাকাভিত্তিক পানির মূল্য নির্ধারণ বিষয়ক টেকনিক্যাল স্টাডির (কারিগরি গবেষণা) ফলাফল।

তিনি আরও জানান, রাজধানীকে ১০টি জোনে ভাগ করে এলাকাভিত্তিক ও গ্রাহকভিত্তিক পানির নতুন দাম নির্ধারণের প্রস্তাব করা হচ্ছে। আর প্রস্তাবিত দামের বিষয়ে গ্রাহক পর্যায়ে আরো আলোচনা করা হবে।

ওয়াসার প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে আরও দেখা গেছে, রাজধানীর সরকারি প্রতিষ্ঠান ও মধ্যবিত্ত মানুষ উৎপাদন মূল্যে পানি পাবে। যার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ টাকা। এটা বাস্তবায়িত হলে এসব গ্রাহককে বর্তমান দামের চেয়ে আরো ৯ টাকা ৮২ পয়সা বেশি পরিশোধ করতে হবে। নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্য পানির দাম বাড়বে ৩ টাকা ৫৭ পয়সা। অন্যদিকে নিম্নবিত্তদের জন্য পানির দাম কমবে ২ টাকা ৬৮ পয়সা। এছাড়া বাণিজ্যিক গ্রাহকের জন্য পানির দাম বাড়বে ৮ টাকা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নতুন মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে ওয়াসার পানি উৎপাদন খরচ ও বিক্রি মূল্যের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা সমান করা যাবে। অর্থাৎ এ খাতে আর ভর্তুকি দিতে হবে না।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মেজবাহ্‌ উদ্দিন চৌধুরী, ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা, ওয়াটার এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহানসহ ঢাকা ওয়াসার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।