নতুন অর্থবছরে আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ ৮ চ্যালেঞ্জ

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: করোনার ধাক্কা কাটিয়ে অর্থনীতির গতি বাড়াতে আগামী (২০২২-২৩) অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকার বাজেটে অন্যান্য বারের মতো স্বাস্থ্য ও কর্মসৃজনে প্রাধান্য থাকবে। এবার আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ আটটি প্রধান চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করছে সরকার।

জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও বাজেট প্রণয়নের অংশ হিসেবে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন, স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সংলাপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতের কিছু ক্ষেত্রে আওতা বেড়েছে, কিছু ক্ষেত্রে বরাদ্দও বেড়েছে। সামাজিক নিরাপত্তায় কিছু পলিসি সাপোর্ট আবার কিছু ক্যাশ সাপোর্টও থাকে। আর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এবার কিছু বাড়তি সতর্কতা থাকবে। স্বাস্থ্য, কর্মসৃজনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব থাকবে। বিগত কয়েক বছরের মতো স্বাস্থ্যখাত গুরুত্ব দেওয়া হবে। মানুষের কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরা হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে এটি বিস্তৃত করা হবে।

এছাড়া মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং বিভিন্ন সংগঠন থেকে বাজেটের ওপর প্রস্তাবনা এসেছে। সবার সঙ্গে আলোচনা, তাদের প্রস্তাবনা ও মন্ত্রণালয়ের সার্বিক বিশ্লেষণে আগামী অর্থবছরের জন্য আটটি প্রধান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, তেল, গ্যাস ও সারের মূল্যবৃদ্ধিজনিত বর্ধিত ভর্তুকির জন্য অর্থের সংস্থান, বেসরকারি বিনিয়োগ অব্যাহত রেখে কর্মসৃজন, আমদানি সহনীয় পর্যায়ে রেখে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ স্থিতিশীল রাখা, ব্যাংকঋণের সুদহার বর্তমান পর্যায়ে রাখা, রাজস্বের পরিমাণ বাড়ানো ও বাজেট ঘাটতি কমিয়ে আনা, কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়া এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বাড়ানোর বিষয়গুলো প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এসব বিষয় মাথায় রেখে সাজানো হয়েছে আগামী অর্থবছরের বাজেট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের বাজেট প্রণয়ন সরকারের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। কারণ করোনা-পরবর্তী দেশের অর্থনীতি গতিশীল করতে এবার ব্যতিক্রমী বাজেট ঘোষণা করতে হবে। এছাড়া করোনার কারণে পিছিয়ে পড়া মানুষদের নতুন করে বাড়তি সুরক্ষা দিতে বাজেটে থাকতে হবে বিশেষ উদ্যোগ। নজর রাখতে হবে মূল্যস্ফীতির দিকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সামাজিক নিরাপত্তা খাতের কিছু ক্ষেত্রে আওতা বেড়েছে, কিছু ক্ষেত্রে বরাদ্দও বেড়েছে। সামাজিক নিরাপত্তায় কিছু পলিসি সাপোর্ট আবার কিছু ক্যাশ সাপোর্টও থাকে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এবার কিছু বাড়তি সতর্কতা থাকবে। স্বাস্থ্য, কর্মসৃজনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব থাকবে। বিগত কয়েক বছরের মতো স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। মানুষের কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরা হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে এটিকে বিস্তৃত করা হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে ঘোষিত বাজেটের আকার ছিল ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এবার ৭৪ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হবে। এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হচ্ছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে যা ছিল ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। মোট বিনিয়োগ ধরা হয়েছে জিডিপির ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে বেসরকারি খাত থেকে ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ ও সরকারি খাত থেকে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বিনিয়োগ আসবে।

বাজেটে টাকার অঙ্কে নতুন জিডিপির আকার হচ্ছে ৪৪ লাখ ১২ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া আছে। আগামী অর্থবছরে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ৮ দশমিক ৪ শতাংশ।

আগামী বাজেটে মোট আয়ের মধ্যে নন-এনবিআর থেকে প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। এবারের বাজেটে করবহির্ভূত রাজস্ব ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ছিল ২ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা, আসন্ন বাজেটে ২৮ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ঘাটতি ধরা হবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।