নগরীতে ট্রাফিক পুলিশের বেশির ভাগ মামলা হচ্ছে হাতে লেখা কেইস স্লিপে

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন অ্যান্ড ফাইন পেমেন্ট সিস্টেম চালু । বলা হয়েছিলো ‘পস’ মেশিনের মাধ্যমে মামলা দেয়া হলে সেই জরিমানার অর্থ সরাসরি ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ফলে ইচ্ছেমতন জরিমানা আদায় কিংবা হয়রানির সুযোগ থাকবে না৷ চালুর ৬ মাসের মধ্যে নগরির ট্রাফিক বিভাগের শতভাগ মামলা ই-ট্রাফিকিং পদ্ধতির আওতায় আনার ঘোষনাও করা হয়েছিলো৷ অথচ ই-ট্রাফিকিং ব্যবস্থা চালুর দেড় বছরেরো বেশী সময় পর এসে দেখা যাচ্ছে ইট্রাফিকিং মামলার চেয়ে হাতে লিখা কেইস স্লিপেই মামলা ও জরিমানা আদায় হচ্ছে বেশী৷

সিএমপির ট্রাফিক উত্তর বিভাগের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে – গত আগস্ট মাসে কেইস স্লিপের ৮১০৬ টি মামলায় আদায় করা হয়েছে ৩৩,৯১৬৫০ টাকা৷ অথচ আগস্ট মাসে ইলেক্ট্রনিক্স পস মেসিনে ৪১৭৪টি মামলার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ১১২৬৪০০ টাকা৷

এদিকে নগর পুলিশের বন্দর জোনের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে গত আগস্ট মাসে কেইস স্লিপে ৭০৯৪ টি মামলায় জরিমানা আদায় হয়েছে ২৮৪২০৫০ টাকা৷ আর একই মাসে ইলেক্ট্রনিক্স পস মেসিনে ৩৩৪৪ টি মামলার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ১০১৭৮০০ টাকা৷

সিএমপি’র এই দুই বিভাগের জুন মাসের চিত্র দেখা যাচ্ছে কেইস স্লিপে আদায় করার পরিমান মেসিনে আদায়ের তিন ভাগের একভাগ৷ অর্থাৎ নগর ট্রাফিকের মামলা ও জরিমানার ৭৫ ভাগই কেইস স্লিপ নির্ভর৷ ফলে এসব মামলার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ থেকেই যায়৷ এছাড়া কেইস স্লিপের মামলা ও জরিমানা আদায়ে ব্যাপক দূর্ণিতী ও অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের আর এসব অভিযোগ বন্ধেই মূলত ইট্রাফিকিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার৷ কিন্তু বারবার চেষ্টা চালিয়েও পূর্ণাঙ্গ ইট্রাফিকিং ব্যবস্থা চালু করতে পারেনি সিএমপি৷ ফলে দূর্ণীতি আর অনিয়মের অভিযোগ রয়েই গেছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী সিপ্লাসকে জানিয়েছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং ভোগান্তি এড়াতে ই-ট্রাফিকিং ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছিলেন৷ কিন্তু যারা এই ই-ট্রাফিকিং এর ফলে অনৈতক সুযোগ পাবে না তারা কখনোই চাইবেনা এই পদ্ধতি শতভাগ কার্যকর হোক৷ তিনি অবিলম্বে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে ই-ট্রাফিকিং ব্যবস্থা শতভাগ কার্যকর করার দাবী জানান।

তবে নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে সদ্য যোগ দেয়া দুই উপ কমিশনার জানিয়েছেন নানান সমস্যা কাটিয়ে চলতি বছরের মধ্যেই শতভাগ মামলা ই-ট্রাফিকিং মেসিনে করার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ শুরু করেছেন৷ সিএমপি’র উপ কমিশনার (ট্রাফিক বন্দর) তারেক আহমেদ সিপ্লাসকে জানান, আমি যোগদানের পর বিষয়টি নিয়ে সবার সাথে আলাপ করেছি৷ মেশিন ও নেটওয়ার্ক জনিত সমস্যা দূরকরতে পস মেশিন সংশ্লিষ্ঠদের সাথে আলাপ করে সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ নিয়েছি৷ ইতিপূর্বে হাতে লেখা কেইস স্লিপ ও পস মেশিনের রেশিও ৬০-৪০ টার্গেট ছিলো৷ চলতি মাস থেকেই সেটাকে ৫০-৫০ করার নির্দেশ দিয়েছি৷ সিএমপি’র উপ কমিশনার (ট্রাফিক উত্তর) আমির জাফর সিপ্লাসকে জানান, সাম্প্রতি দ্বায়িত্ব নিয়েই বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমাদের সদ্য নিযুক্ত এডিশনাল কমিশনার (ট্রাফিক) স্যার দুই দফায় আমাদের সাথে নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক করেছেন। পস মেসিন সংক্রান্ত কিছু ত্রুটি ছিলো যা শীঘ্রই দূর হয়ে যাবে। ধারাবাহিক ভাবে পস মেসিনের মাধ্যমে মামলা দায়েরের পরিমান বৃদ্ধি পাবে উল্লেখ করে ডিসি আমির জাফর জানান, চলতি বছরের মধ্যেই সিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের সকল মামলা শত ভাগ ই-ট্রাফিকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে৷