দৌলতদিয়ায় নদী পারের অপেক্ষায় হাজারো মানুষ

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে রাজধানীসহ কর্মস্থলে ফেরা অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক দিনের মতো সোমবারও সকাল থেকে দিনভর দৌলতদিয়া ঘাট অভিমুখে মহাসড়কে ৪-৫ কিলোমিটার যানজট ছিল। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে পরিবহণ চালক ও যাত্রীদের। অনেকেই দীর্ঘ সময় বাসে থাকার পর হেঁটেই লঞ্চ-ফেরিঘাটের দিকে রওনা দেন।

এদিকে ফেরিঘাট থেকে দূরপাল্লার গাড়ি বেশ দূরে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন চালকসহ হেলপাররা। গরমে আটকে থেকে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রতিটি যাত্রীবাহী বাসকে ফেরির নাগাল পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে প্রায় ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত।সরেজমিন দৌলতদিয়ার ফেরিঘাটগুলোতে দেখা যায়, হাজার হাজার মানুষ ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় পন্টুনে অপেক্ষা করছেন। ফেরি পন্টুনে ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে হুড়োহুড়ি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফেরিতে উঠতে দেখা যাচ্ছে। ফেরিতে থাকা পণ‍্যবাহী ট্রাক, ব‍্যক্তিগত গাড়ি, যাত্রীবাহী বাস আনলোড হওয়ার আগেই যাত্রীরা ফেরিতে প্রবেশ করতে শুরু করেন।

অপরদিকে ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের দুই লাইনে গোয়ালন্দ ফিডমিল পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাকও রয়েছে। যাত্রীবাহী বাসগুলোকে ফেরির নাগাল পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা। পন্টুনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ঈদের ছুটি শেষ হয়েছে অনেক আগেই। আজকের মধ্যে অবশ্যই ঢাকায় পৌঁছতে হবে। ৫নং ফেরিঘাটে দুপুর ১টায় যশোর হতে আসা সোহাগ পরিবহনের যাত্রী ইসমাইল হোসাইন জানান, তারা দুপুর ১২টায় গোয়ালন্দের ফিডমিল এলাকায় এসে যানজটে আটকা পড়েন। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টার মতো আটকে থাকেন তারা। পরে কোনো উপায় না দেখে ৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে ফেরিঘাটে আসেন। সেখানেও অনেকক্ষণ পন্টুনে ফেরির অপেক্ষা করেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শিহাব উদ্দিন বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকায় সোমবার সকাল থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ছোট-বড় মিলে ২০টি ফেরি চলাচল করছে। এবার ঈদের আগে অধিকাংশ যাত্রীই ভোগান্তি ছাড়া নদী পার হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ঈদের পরে ঘাটে কিছুটা সিরিয়াল থাকলেও কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন বলে তিনি দাবি করেন।