দুবাইয়ে কালোটাকার ছড়াছড়ি, নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবি

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে পশ্চিমাদের আর্থিক খাতের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। অভিযোগ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক হারে কালোটাকা ঢুকেছে। এ ছাড়া পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞায় পড়া রাশিয়ার অভিজাত ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগের লক্ষ্য হিসেবে দুবাইকে বেছে নিয়েছেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমালোচক ও কালোটাকার বিরুদ্ধে সোচ্চার বিল ব্রাউডার যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভারকে বলেন, দুবাই দীর্ঘদিন ধরে কালোটাকার জন্য নিরাপদ জায়গা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। দেশটিকে এখন আর্থিক কালো তালিকায় রাখা উচিত এবং এর নেতাদের যুক্তরাজ্যে স্বাগত জানানো উচিত হবে না।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানানো রাজনীতিবিদ এবং দুর্নীতিবিরোধী কর্মীদের ক্রমবর্ধমান তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছেন ব্রাউডার। গত মাসে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট সদস্যদের একটি দল ইউরোপিয়ান কমিশনার মেইরেড ম্যাকগিনেস বরাবর একটি খোলা চিঠি দেয়। তাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

ওই খোলা চিঠিতে সই করা ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য কিরা পিটার-হ্যানসেন গত ১১ মে এক টুইটে বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থ পাচারের তালিকায় আসতে দুবাইয়ের আর কত কেলেঙ্কারি লাগবে?

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে অনেক রুশ ধনকুবের তাঁদের ব্যক্তিগত বিমান ও ইয়ট দুবাইয়ের মতো নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত রুশ অলিগার্কদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল বলে খবর চাউর হওয়ার পরপরই ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট সদস্যরা ওই চিঠি দেন।

চিঠিতে বলা হয়, এটা স্পষ্ট যে সংযুক্ত আরব আমিরাত বড় মাত্রায় অর্থ পাচারকে উৎসাহিত করে। এটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, যা মেনে নেওয়া যায় না।

বিশ্বব্যাপী আর্থিক অপরাধ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্স গত মার্চ মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ‘গ্রে’ তালিকায় রেখেছে। গত মে মাসে অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টের (ওসিআরপি) ফাঁস হওয়া তথ্যে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তিরা দুবাইয়ে কী পরিমাণ অর্থ ঢুকিয়েছেন, তা বেরিয়ে এসেছে। বিশেষ করে দেশটির আবাসন খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢুকেছে।

এ বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চেয়েও পায়নি বিজনেস ইনসাইডার।