দিনে পোস্টার, রাতে লাশ

CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন
১৩ অক্টোবর প্রবারণা পূর্ণীমা উপলক্ষ্যে সবাইকে মৈত্রিময় শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টারিং করেছিলো ২৮ নং পাঠানটুলি ওয়ার্ড যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি খুরশীদ আহমেদ। রোববার (১৩ অক্টোবর) রাতেই র‍্যাবের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হয়েছেন। নিহত খুরশিদ আহমেদের বিরুদ্ধে আলোচিত মান্নান হত্যাসহ অন্তত আটটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডবলমুরিং থানা সূত্রে জানা গেছে, নিহত খুরশীদ থানার তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। বেশ কিছুদিন যাবৎ আইনশৃংখলা বাহিনী তাকে খুঁজছিলো। ধারণা করা হচ্ছে নিজের ইমেজ বাড়াতে সাম্প্রতিক সময় গুলোতে বিভিন্ন দিবস উপলক্ষ্যে এলাকায় ব্যাপক প্রচার প্রচারণার পাশাপাশি একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলো খুরশীদ। নিজেকে প্রয়াত মহিউদ্দিন অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিতো খুরশীদ সেই সাথে স্থানীয় এমপি এম এ লতিফের সাথেও যোগাযোগ রাখছিলো খুরশীদ।
জানা যায়, স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগের একাংশের নিয়ন্ত্রন ছিলো খুরশীদের। ফলে স্থানীয় কাউন্সিলর আব্দুল কাদেরের সাথেও তার বিরোধ চলছিলো। কয়েকমাস যাবৎ আগ্রাবাদ বিদ্যুৎ ভবনের টেন্ডার কাজে ভাগ বসিয়ে ছিলো খুরশীদ। সেই সাথে আগ্রাবাদ এলাকার অনেক শিপিং অফিস থেকে কেরিং কন্ট্রাকের কাজ বাগিয়ে নিয়েছিলো। প্রচার আছে এসব কাজের একক নিয়ন্ত্রন করতো কাউন্সিলর আব্দুল কাদের (মাছ কাদের)। ফলে কাদেরের সাথে খুরশীদের স্নায়ু যুদ্ধ সম্প্রতি মুখোমুখি অবস্থান নিতে শুরু করে। বিভিন্ন সংস্থার তালিকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীর পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীর তালিকাতেও তার নাম ছিলো।
সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরের অনুসারি কাদেরের এলাকায় আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সাবেক কাউন্সিলর বাহাদুরের পক্ষে কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো খুরশীদ।
খুরশীদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সিপ্লাসকে জানান, কাউন্সিলর কাদেরের (মাছ কাদের) চক্রান্তে আইন শৃংখলা বাহিনীকে ভুল বুঝিয়ে খুরশীদকে ক্রস ফায়ারের নামে মেরে ফেলা হয়েছে। ইতিপূর্বে স্থানীয় থানার পুলিশকে ব্যবহার করে খুরশীদকে গ্রেফতারের অভিযান চালানো হলেও বর্তমানে তার কোন মামলার ওয়ারেন্ট ছিলো না বলে দাবী করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগর ছাত্রলীগের সম্পাদক পদের এক নেতা।
রোববারাতে র‍্যাবের সাথে গুলি বিনিময়ে খুরশিদ আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব-৭ এর মিডিয়া অফিসার। ঘটনার দীর্ঘক্ষন পর পর্যন্ত ওয়াল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনের রাস্তার দু’পাশ বন্ধ রাখা হয়েছিলো। একই সাথে সিল্ভার স্পুন রেস্তোরার সামনেও ছিলো র‍্যাবের ব্যারিকেট । নিহত খুরশীদের লাশ একটি খোলা মিনি পিকাপের পেছনে বহন করে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেয়ার সময় অনেক তরুন যুবককে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখা গেছে।
খুরশীদের মারা যাওয়ার সংবাদে মোগলটুলি এলাকায় ধমধমে অবস্থা বিরাজ করছে। খুরশীদের বাড়ির আশপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।