থেমেছে ডিম আর মুরগির দৌড়

ছবি: সংগৃহীত
CPLUSTV
CTG NEWS
CPLUSTV
শেয়ার করুন

সিপ্লাস ডেস্ক: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর কয়েক দফায় দর বেড়ে প্রতি ডজন ব্রয়লার মুগির ডিম ১৫৫ টাকায় উঠেছিল। তবে উৎপাদনে গতি আর বাজার তদারকির প্রেক্ষাপটে ডিমের দাম নামতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে থেমেছে ব্রয়লার মুরগির দামের দৌড়। তবে গত কয়েকদিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকা চালের বাজার আরও চড়েছে।

ডিম ও মুরগির দাম নিয়ে কারসাজি ঠেকাতে বৃহস্পতিবার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ডিম ও মুরগির পাইকারি এবং খুচরা দোকানে অভিযান চালিয়েছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, তেজকুনিপাড়া ও মহাখালী কাঁচা বাজার এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা দরে, যা দুই দিন আগেও বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা দরে। তবে সোনালি মুরগির দাম আগের মতোই কেজি ৩০০ থেকে ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিম ও মুরগি ব্যবসায়ীরা জানান, দাম বেড়ে যাওয়ার পর বিক্রি কিছুটা কমেছিল। এখন বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, তাই দাম কমেছে।

কারওয়ান বাজারের নুরজাহান চিকেন ব্রয়লার হাউসের স্বত্বাধিকারী সামছুল হক বলেন, দুই দিন ধরে দাম কমছে। বাজারে মুরগির সরবরাহ বেশি থাকলে দাম কমে যায়।

একই বাজারের ডিম ব্যবসায়ী মো. সফিউল বলেন, দাম বাড়ার কারণে মানুষ ডিম কেনা কমিয়ে দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের কাছে আগের কেনা ডিম রয়ে গেছে। অন্যদিকে, বাজারে ডিমের সরবরাহও বেড়েছে। ফলে ডজনে ২০ থেকে ২৫ টাকা কমেছে।

তবে ডলারের দাম বাড়ার কারণে ডিমের উৎপাদন খরচ আগের চেয়ে বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)।

সংগঠনটি বলছে, গত জুলাইয়ের চেয়ে প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ বেড়েছে ৫০ পয়সার বেশি। প্রতিটি ডিমের বর্তমান গড় উৎপাদন খরচ প্রায় সাড়ে ৯ টাকা। আর ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ হচ্ছে ১৪০ টাকার বেশি। খামার পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের দাম এখন ৯ টাকা ৭৩ পয়সা আর ব্রয়লার মুরগির কেজি প্রায় ১৪৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজার এখনও অস্থির: ডিম ও মুরগিতে কিছুটা স্বস্তির খবর থাকলেও চালের বাজার নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটেনি। শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হলেও বাজারে এখনও সেটির প্রভাব নেই। উল্টো কয়েকদিন পর পর কেজিতে দু-এক টাকা করে দাম বাড়ছে। এক থেকে দুই টাকা বেড়ে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৭৫ টাকা। গত সপ্তাহে মিনিকেট ৭০ থেকে ৭৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। কেজিতে দুই টাকা বেড়ে বিআর-২৮ জাতীয় চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায়। নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৯২ টাকায়, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৭৫ থেকে ৯০ টাকা। এ ছাড়া স্বর্ণা জাতীয় মোটা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৪ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে।

চালের দাম আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন তেজকুনি পাড়া এলাকার বারেক ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের স্বত্বাধিকারী আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, পাইকারি পর্যায়ে ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা মিনিকেট চালের দাম আরও ৫০ টাকা বেড়েছে। ২৫ কেজি ওজনের নাজিরশাইলের বস্তাতেও বেড়েছে ৫০ টাকা। অর্থাৎ এ দুই ধরনের চালের কেজিতে পাইকারি পর্যায়ে এক টাকা করে দাম বেড়েছে, যা খুচরা বাজারে কেজিতে দুই টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এদিকে, পেঁয়াজের দাম পাইকারি পর্যায়ে গত দু’দিনে দুই টাকা কমে ৪৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে খুচরা বাজারে আগের মতোই ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মহল্লার দোকানে কেউ কেউ ৬০ টাকা পর্যন্ত দাম রাখছেন। এ ছাড়া সবজির দাম স্বাভাবিক দেখা গেছে।

জরিমানা: বিভিন্ন অনিয়মের কারণে কারওয়ান বাজারের হিমালয় ট্রেডার্স ডিমের আড়ত ও জনতা মা মনি ডিমের আড়ত এবং সততা মুরগির আড়ত ও আলহাজ এন্টারপ্রাইজ নামের চারটি প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানের কিছুটা প্রভাব বাজারে পড়ছে বলে মনে করেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল।